আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ভোট উৎসব, গ্রামের পথে ছুটছে মানুষ

আমার দেশ অনলাইন

ভোট উৎসব, গ্রামের পথে ছুটছে মানুষ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে টানা চারদিনের ছুটি পেয়েছেন চাকরিজীবীরা। ভোট উৎসবে যোগ দিতে তারা রওনা দিয়েছেন গ্রামের বাড়ির পথে। যাত্রী ও পরিবহন সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে পাটুরিয়া ও আরিচা ফেরিঘাটে দেখা দেয় যানজট। এ যেন ঈদের আমেজ। এছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ ৩২ কিলোমিটা যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েন ঘরমুখো মানুষ।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে চন্দ্রা হয়ে টাঙ্গাইলের হাঁটুভাঙা পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে ঘরমুখো যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, মহাসড়কে যানজট প্রকট আকার ধারণ করেছে। টানা চারদিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের কারখানার শ্রমিকসহ বিভিন্ন অফিসের লোকজন দেশের বাড়ি ছুটছেন ভোট দিতে। এতে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চন্দ্রা ত্রিমোড় ও আশপাশের এলাকায় বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের লম্বা সারি। ঈদের সময়ের মতো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে অনেক কারখানায় একটানা তিনদিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ সুযোগে শ্রমিকদের একটি বড় অংশ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশে দেশের বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।

এদিকে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও যানবাহনস্বল্পতার সুযোগে কয়েকটি পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনাজপুরের বীরগঞ্জের যাত্রী ইমন জানান, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ৬০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়, সেখানে বর্তমানে এক হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের যাত্রী আম্বিয়া ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাড়ি গিয়ে ভোট দিমু কিন্তু গাড়ি ভাড়া দিব কেরা। সরকার ভোট দিতে কইছে আবার গাড়ি ভাড়া বাড়িয়ে দিছে। যত বিপদ শুধু গরিবের।

বেশি ভাড়ার আশায় পরিবহনের লোকজন বেছে বেছে যাত্রী তুলছেন, তাদের গাড়ি বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে যানজট দীর্ঘ হচ্ছে। রাজীব পরিবহনের সুপারভাইজর জিকু বলেন, গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে যানজট শুরু। সেখান থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে চন্দ্রা আসতে পাঁচ ঘন্টা সময় লেগেছে। অপরদিকে ঢাকাগামী নাফিস পরিবহনের চালক তারা মিয়া বলেন, হাঁটুভাঙা থেকে দুই ঘণ্টায় চন্দ্রা পৌঁছালাম। ঢাকা যেতে সারা দিন কেটে যাবে মনে হয়।

মহাসড়কে যানজটের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সাওগাত হোসেন বলেন, নির্বাচন ও কারখানার ছুটিকে কেন্দ্র করে একযোগে চাপ বেড়ে যাওয়ায় সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছি।

তিনি আরো জানান, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং যাত্রী হয়রানি রোধে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

শিবালয় (মানিকগঞ্জ)প্রতিনিধি জানান, ভোট উৎসবে যোগ দিতে বাড়ির পথে রওনা হওয়া মানুষের ভিড়ে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে দেখা দিয়েছে যানজট। যাত্রী ও পরিবহন সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল সকাল হতে পাটুরিয়া ও আরিচা ফেরিঘাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ যেন ঈদের আমেজ। ভোট উপলক্ষে টানা চার দিনের ছুটি পেয়েছে চাকরিজীবী মানুষরা। ভোট উৎসবে যোগ দিতে রওনা দিয়েছে বাড়ির পথে।

একযোগে ঢাকা ছেড়ে মানুষ পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে এসে উত্তরাঞ্চলের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে রওনা হচ্ছে। লঞ্চ ফেরিতে জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। দাঁড়াতে হচ্ছে লাইনে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তারা পার হতে পারছেন। এমন চিত্র দেখা গেছে দুই ঘাট ঘুরে। ভোট দিতে যাওয়া আব্দুর রহমান বলেন, গ্রামের বাড়ি যশোর যাচ্ছি ভোট দিতে। আবু সাঈদ, কুদ্দুস মিয়া, সবাই ভোট দিতে যাচ্ছেন পাবনা অঞ্চলে। সাইদুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে বাসায় যাচ্ছি ভোট দেওয়ার জন্য। আমরা দেখতে পাচ্ছিÑএকটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, তাই ভোট দেওয়ার জন্য আনন্দ নিয়ে বাসায় যাচ্ছি। কিন্তু পরিবহন ভাড়া একটু বেশি হওয়ায় কষ্ট হচ্ছে। একই কথা বলেছেন সুবহান। তিনি দুঃখ করে বলেছেন, ১৭ বছর পরে ভোট দেওয়ার জন্য গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। বিগত ১৭ বছর ভোট দিতে পারিনি। তবে এ অবস্থায় পরিবহনের মালিকরা সিন্ডিকেট করে ভাড়া বেশি নিচ্ছে। তাই কষ্ট হচ্ছে। কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেখতে পাইনি। তিনি আরো বলেন, একটি নতুন সরকার গঠন করতে গ্রামে যাচ্ছি অথচ কোথাও নিরাপত্তা নেই।

গাড়ির ড্রাইভার আবুল হোসেন বলেছেন, আমরা সকালে এসেছি। ভিড়ের কারণে এখনো ফেরিতে জায়গা পাইনি। এসব ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম আব্দুস সালাম বলেন, মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি ফেরার কারণে হঠাৎ করে ঘাটে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে দিনের মধ্যে যানজট থাকবে না বলে আশা করছি। এ ব্যাপারে লঞ্চ মালিক ওয়াসিম মোল্লা বলেন, হঠাৎ করে যাত্রী বেড়ে যাওয়ায় আমাদের সিরিয়াল দিতে একটু সমস্যা হচ্ছে, তবে এটা ঠিক হয়ে যাবে। স্পিডবোর্ড মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা সিরিয়াল ধরে যাত্রী পার করছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই এ জনজট থাকবে না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...