কক্সবাজারে এক অভিযানে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি একজন সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পিত একটি ষড়যন্ত্র উদঘাটন করেছে সেনাবাহিনী।
মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) ভোরে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককুল এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, ভোর ৫টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর উপজেলার দক্ষিণ ডিককুল এলাকায় কক্সবাজার সদর আর্মি ক্যাম্পের অধীন ৯ বেঙ্গলের একটি বিশেষ দল অভিযান চালায়। অভিযানের সময় একটি বসতবাড়ির পাশ থেকে ২টি দেশীয় অস্ত্র ও ২টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেয়া হয়।
সেনাবাহিনী বলছে, অভিযানের পর গভীর অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তথ্য যাচাই-বাছাই করে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তথ্য মতে, সদর উপজেলার দক্ষিণ ডিককুল এলাকার মারুফ হাসান তাহসিন ও অজুফা বেগম দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ওই এলাকার সাংবাদিক ফরহাদকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ভাবে ওই অস্ত্র ও কার্তুজ ঘটনাস্থলে রেখে যায়। পরে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও তৎপরতায় সন্দেহভাজন মারুফ হাসান তাহসিনকে আটক করা হলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত অজুফা বেগমের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সাংবাদিক ফরহাদের বসতভিটা দখলের উদ্দেশ্যে গত প্রায় দুই বছর ধরে অজুফা বেগম ও তার সন্ত্রাসী সহযোগীরা বিভিন্নভাবে তাকে হয়রানি করে আসছিল। একের পর এক মিথ্যা মামলা, হুমকি ও হামলার ঘটনায় তিনি দীর্ঘদিন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। সর্বশেষ সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে তাকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর ভয়ংকর পরিকল্পনাও করা হয়, যা সেনাবাহিনীর সতর্কতা ও দক্ষতায় সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়।
সেনাবাহিনী দাবি করছে, এই অভিযানের মাধ্যমে একদিকে যেমন একটি গভীর ষড়যন্ত্র উদঘাটন হয়েছে, তেমনি সম্ভাব্য বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলা অবনতি আগেভাগেই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

