ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ পৌরসভায় দীর্ঘদিনেও গড়ে উঠেনি ডাম্পিং স্টেশন। যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। প্রতিনিয়তই হাট-বাজারের ময়লা-আবর্জনাসহ নানা ধরনের বর্জ্য ফেলায় পুরো শহর যেন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। ফলে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। দিনের পর দিন রাস্তার পাশে আবর্জনা ফেলায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকার মানুষ। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেই পৌর কর্তৃপক্ষের। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে না।
কালীগঞ্জ পৌরবাসীর দাবি, নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করলেও তারা কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, পৌর এলাকার কয়েকটি স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ফলে পথচারীদের সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, কালীগঞ্জ পৌরসভাটি ১৯৯০ সালের ১৪ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আয়তন ১৫.৮৩ বর্গকিমি.। কালীগঞ্জ পৌর শহরের মধ্য দিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক এবং মেহেরপুর-খুলনা মহাসড়ক বিদ্যমান। ৯টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত কালীগঞ্জ পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হলেও বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। পৌরবাসী এখনো সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য ডাস্টবিন থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো চুরি হয়ে গেছে। ফলে বিভিন্ন স্থানে শহরবাসী ময়লা-আবর্জনা ফেলেন। এসব স্থান থেকে প্রতিদিন ময়লা সরানো হয় না এবং ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয় না। পৌরসভার নিজস্ব ভাগাড় ও বর্জ্য সংগ্রহব্যবস্থা না থাকায় শহরবাসী বর্জ্য পাশের ড্রেন, নদ, খাল, পুকুর ও ডোবায়, ক্রীড়া ফেডারেশনের পেছনে, কলেজপাড়া, কাশিপুর বেদেপল্লির সন্নিকটে, মোবারক আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে, আডপাড়া খালের মধ্যে, রেলস্টেশন সড়কের দুপাশে, নতুন বাজার, চিত্রা নদীর পাশে ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গোপনে ফেলে রাখা হয়। শহরের প্রাণকেন্দ্র কালীবাড়ির সামনে প্রতিদিন ময়লা স্তূপ করে রাখা হয় । নর্দমার ওপরেই ময়লা পচে দুর্গন্ধে শহরবাসীর পথচলা দায় হয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ শহরে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় লোকজন যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলছেন। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, শহরবাসী নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা না ফেলায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকার লোকজন দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পেতে অনেক সময় নাক চেপে ধরে চলাচল করছেন। সবচেয়ে বড় সমস্যা পোহাতে হয় বর্ষাকালে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ফেলার জন্য পৌরসভার এমন কোনো নির্ধারিত ডাস্টবিন নেই। আবর্জনার স্তূপ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি মহাসড়কে চলাচলকারীরা সমস্যায় পড়ছেন। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে। কিন্তু বাসাবাড়ির ময়লা তারা যেখানে-সেখানে ফেলে রেখে পরিবেশ নষ্ট করছে।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা বলেন, খোলা ময়লা-আবর্জনা থেকে রোগ-জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে মানুষ ও জীবজন্তুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ফুসফুসে বিভিন্ন জটিল রোগ হতে পারে। বায়ুদূষণের কারণে অ্যালার্জি এবং অ্যাজমার সমস্যা প্রকট হয়। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। ফলে লিভার-কিডনির রোগ, ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত সচিব ও প্রকৌশলী কবির হাছান বলেন, পৌরসভা এলাকার ময়লা ফেলার জন্য নিজস্ব জায়গা রয়েছে সেখানে ময়লা ফেলা হয়। কিন্তু অসচেতন ব্যক্তিরা নিজেরা ইচ্ছে করে তাদের বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলে রাখে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


পঞ্চগড়ে চা-বাগানে পোকার আক্রমণ, দিশাহারা চাষি