ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২ লাখ ১৭ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা । স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রতিদিন গড়ে অন্তত প্রায় ৫০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু ডাক্তার ও ওষুধ সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয় গারো পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত সাধারণ মানুষ। জনবল সংকটসহ নানান সমস্যায় জর্জরিত হাসপাতালটি যেন নিজেই রোগী। হাসপাতালে ডাক্তারের ৩৩ পদের বিপরীতে কাগজে-কলমে কর্মরত আছেন ২৭ জন। এদের মধ্যে একজন গাইনিসহ সাতজন কনসালট্যান্ট রয়েছেন। বাকি ২০ জন মেডিকেল অফিসার ও সহকারী সার্জন। কিন্তু কাগজে-কলমে ২৭ জন থাকলেও বাস্তবে সেবা দিচ্ছে তিনজন কনসালট্যান্ট এবং চারজন মেডিকেল অফিসার। ফলে সামান্য অসুখেই যেতে হচ্ছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
বাকি ২০ জনের মধ্যে সংযুক্তিতে অন্য জায়গায় কর্মরত রয়েছেন ডাক্তার খাদিজা বেগম ( গাইনি ও অবস), মেডিকেল অফিসার নাহিদা নাজনীন নিপা, সহকারী সার্জন প্রাপ্তি প্যাট্রিসিয়া হাগিদক।
এক্স-রে মেশিন বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে অতিরিক্ত ফি দিয়ে বাহিরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্স-রে করাতে হয়। ক্লিনিকের দালালের দৌরাত্ম্যে দিশাহারা হয়ে যায় রোগীরা। অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত হাসপাতালটিতে সেবার মান উন্নয়নে নজর নেই কর্তৃপক্ষের।
গাইনি চিকিৎসক না থাকায়, গাইনি ও প্রসূতি সেবা থেকে বঞ্চিত হাজার হাজার নারী রোগী। সিজারিয়ান যন্ত্রপাতি ও কক্ষ থাকলেও চিকিৎসক সংকটে চালু হচ্ছে না কার্যক্রম। দুজন মেডিকেল অফিসার মাসুদ রানা এবং তার স্ত্রী নুসরাত জাহান নিয়মিত হাসপাতালে থেকে সেবা দিচ্ছেন। এছাড়া আরো দুই-একজন মেডিকেল অফিসার থাকলেও বাকিদের কোনো হদিস মেলে না। এই অবস্থায় ভেঙে পড়েছে ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা। একযুগ আগে ৩০ শয্যা থেকে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে পুরোপুরি কার্যক্রম চালু হয়নি। ডাক্তার নিয়মিত না থাকায়, ইনডোর ও আউটডোর সেবা চলে উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ও সাব-সেন্টারের চিকিৎসক দিয়ে। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না এই জনপদের মানুষ। কাশিনাথপুর গ্রামের রবিকুল ইসলাম বলেন, এই হাসপাতালের সেবার উন্নতি কোনো দিন হবে না, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে সেবা নিতে হয়, আর ওষুধ তো পাওয়ায় যায় না।
এ ব্যাপারে ধোবাউড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মির্জা রিয়াদ হাসান বলেন, জনবলের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা দিয়েছি, আশা করছি, খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ঈদুল আজহার অর্থনীতি