সারা দেশে ত্রয়োদশ নির্বাচন নিয়ে সরগরম হয়ে উঠলেও ভোটের হাওয়া লাগেনি জামালপুরের পাহাড়ি জনপদে। ভোট নিয়ে মাথা ব্যথা নেই গারোপাড়াগুলোর বাসিন্দা গারোদের। নির্বাচন এলে প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও জয়লাভ করার পর সংসদ সদস্যরা গারোদের খবর রাখেনি কেউ। এ কারণে ভোট এলেও গারোদের এ নিয়ে কোনো ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে না ।
প্রতি নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে তিক্ত বিরক্ত হন গারোরা। নির্বাচনের তেমন কোনো প্রভাব নেই গারোদের জীবনে। ৫৪ বছর ধরে প্রতিশ্রুতি নামক শব্দগুলো শুনে শুনে বিরক্ত গারো সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। তাই নির্বাচনের হাওয়া শহর-গ্রামে বইতে থাকলেও সেই হাওয়ায় দোলে না পাহাড়ি জনপদ।
ভোট নিয়ে আলোচনা নেই গারো পাড়াগুলোতে। কোন দল জয়ী হবে, কোন প্রতীক এগিয়ে আছে এসব নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা নেই। দেশে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে । তবে গারো এলাকায় নির্বাচনি হাওয়া বইছে না। ভোট ও প্রার্থীদের নিয়ে গরোদের মনে চাপা ক্ষোভ বইছে ।
গারো ভোটাররা বলছে ভোট দিয়ে লাভ কি? আমরা কি অবস্থায় আছি, কেউ খোঁজ নেয় না, আমাদের খোঁজখবর রাখে না কেউ। এক গ্রামের সঙ্গে আরেক গ্রামের সরাসরি সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপিত হয়নি। বর্ষা মৌসুমে পাহাড় কেটে তৈরি হওয়া উঁচুনিচু লালমাটির পথে চলাচলে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ছে বাসিন্দারা। অনুন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের অভাব ও অপ্রতুল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ক্ষুব্ধ গারোরা।
খগিস সাংমা বলেন, নামমাত্র উন্নয়ন হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। আমাদের জীবন চলছে আদিম যুগের মতো। এভাবেই পিছিয়ে পড়া গারো সম্প্রদায়ের মানুষরা ভোট নিয়ে অনিহা প্রকাশ করেছেন।
এবার আর প্রতিশ্রুতি নয়, এবার উন্নয়নের বাস্তবায়ন চান এ জনপদের বাসিন্দারা।
ভারতের মেঘালয়ের পাশে জামালপুরের বকশীগঞ্জের ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নে গারো পাহাড়ের টিলায় কোনায় কোনায় সাতানী পাড়া, সোমনাথ পাড়া, টিলা পাড়া, গারোমারা, দিঘলাকোনা, বৈষ্টমপাড়া ও বালুঝুড়ি নামে সাতটি পাহাড়ি গ্রামে গারোদের বসবাস। গ্রামগুলো নানা নামে গারোপাড়া নামে পরিচিত। এখানে যুগ যুগ ধরে বাস করে আসছেন ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গারো সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও গারোদের কপালে জুটেনি নাগরিক সুবিধা। উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি পাহাড়ি গ্রামগুলোতে। পাহাড়ে নাগরিক সুবিধা পৌঁছবে কবে? নাগরিক সুবিধাটুকু না দিতে পারলে ভোট নিতে আসেন কেন? আমাদের ভোট নেই, ক্ষোভ প্রকাশ করলেন গারো ভোটাররা।
ট্রাইবাল ওয়েলফেরার অ্যাসোসিয়েশন বকশীগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক কাপুস মারাক বলেন, ভোটের আলাপ করে লাভ কি? আমরা ভোটের মধ্যে নেই।
নির্বাচন আসলে প্রার্থীরা ভোট আদায়ে আমাদের সব সমস্যাই দূর করবে, নির্বাচিত হলে আর দেখা মেলে না। রাস্তাঘাট করে দিবে, স্কুল করে দিবে, ভূমি সমস্যা দূর করাসহ কোনো সমস্যাই থাকবে না। নির্বাচনের পর আমাদের খবর কেউ রাখে না। আমরাও বাংলাদেশের নাগরিক। অথচ সিংহভাগ নাগরিক সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত। প্রতিশ্রুতি শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা। প্রতিশ্রুতি নয়, আমাদের সমস্যার বাস্তবায়ন চাই।
শত প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে বাড়তি চাপ হচ্ছে বন্য হাতির আতঙ্ক। খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসা হাতির পাল প্রতিনিয়ত পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট করছে আমাদের ফলানো ফসল, ক্ষতি করে বাড়ি-ঘর, মাঝে-মধ্যে ঘটায় প্রাণহানি জানালেন জুমচাষি গারোরা।
দেশ স্বাধীনের পর একে একে ১২ বার সংসদ নির্বাচনে শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন তারা। এ প্রতিশ্রুতির বুলি তাদের কাছে এখন বিরক্তিকর একটি বিষয়। তাই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর পাহাড়ের উন্নয়নই তাদের মূল চাওয়া।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

