আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এরই মধ্যে শত শত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ঘিরে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
রায়পুরা (নরসিংদী) থেকে এম আজিজুল ইসলাম জানান, নরসিংদী-৫ আসন রায়পুরা উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নে ১৬৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৬টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রকে ঘিরে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এ আসনে এবার নারী-পুরুষসহ মোট ভোটার রয়েছে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ জন। এর মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ১৫ জন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ১৬৭টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮১টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ১৬৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৬টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ২১টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রকে ঘিরে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সব কেন্দ্রে সিসিটিভির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে রায়পুরা উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপন করেছে এবং নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া শিগগিরই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে এবার বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে লড়বেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহ-সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন। পাশাপাশি দলের নির্দেশনা অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি জামাল আহমেদ চৌধুরী। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, ১০ দলীয় জোটসহ বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র থেকে আরো আটজনসহ মোট ১০ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর ব্যাপারে জানতে চাইলে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রায়পুরা উপজেলার ৬৬টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ও ২১টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের ব্যাপারে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ আনসার ও প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তায় একজন সশস্ত্র আনসার থাকবে। এছাড়া পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে।’
রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে থানা পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী নিয়ে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম উদ্দীন জানান, সাতকানিয়া আংশিক ও লোহাগাড়া এ দুই উপজেলা নিয়ে চট্টগ্রাম-১৫ আসন গঠিত। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে লোহাগাড়া উপজেলার ৬৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৯টি অতিঝুঁকিপূর্ণ ও ১২টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু ও নিশ্চিত রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া, কেন্দ্রগুলোর দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে । সব প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে অতিঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৯টি । তার মধ্যে পদুয়া ইউনিয়নে চারটি, চরম্বা ইউনিয়নে দুটি, কলাউজান ইউনিয়নে একটি, লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নে দুটি, পুটিবিলা ইউনিয়নে তিনটি, চুনতি ইউনিয়নে দুটি, আধুনগর ইউনিয়নে দুটি ও বড়হাতিয়া ইউনিয়নে তিনটি। অতিঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো হলোÑপশ্চিম পদুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পদুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফরিয়াদিরকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধলিবিলা প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরম্বা ছিদ্দিকিয়া মদিনাতুল উলুম মাদরাসা, নোয়ার বিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তৈয়ব আশরাফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উজিরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুটিবিলা পশ্চিম তাঁতিপাড়া আমতলী পুকুরপাড় ফোরকানিয়া মাদরাসা, সডাইয়া এবতেদায়ি মাদরাসা, পহরচান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চুনতি হাফিজিয়া আদর্শ মাদরাসা, নারিশ্চা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মছদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আধুনগর উচ্চবিদ্যালয়, ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়হাতিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, চাকফিরানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১২টি। সেগুলো হচ্ছেÑপদুয়া ইউনিয়নে দুটি, চরম্বা ইউনিয়নে একটি, কলাউজান ইউনিয়নে দুটি, লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নে একটি, পুটিবিলা ইউনিয়নে তিনটি, চুনতি ইউনিয়নে দুটি, আধুনগর ইউনিয়নে একটি।
ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর হলোÑদক্ষিণ সাতকানিয়া গোলাম বারী উচ্চবিদ্যালয়, মল্লিক ছোয়াং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পদুয়া আইনুল উলুম দারুস সুন্নাহ মাদরাসা, বাঘমুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরম্বা বাইয়ারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলাউজান গৌর সুন্দর উচ্চবিদ্যালয় (একাডেমিক ভবন), কলাউজান গৌর সুন্দর উচ্চবিদ্যালয় (বিজ্ঞান ভবন), লোহাগাড়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসা, উত্তর হরিণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাতগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পানত্রিশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খালাসীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৫ জন, এর মধ্যে পুরুষ সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৩২ ও ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৬৩ জন মহিলা।
নির্বাচনি এলাকায় সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোতায়েনের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনের চার দিন আগে থেকে এবং নির্বাচন পরবর্তী দুই দিন মিলিয়ে মোট ছয় দিন নিরাপত্তা জোরদার থাকবে।
উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রিকল চাকমা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্রগুলোতে আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণ, অতীতে কেন্দ্রে মারামারি হয়েছে কি না, প্রভাবশালী কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি আশেপাশে অবস্থান করছে কি না, এ বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করে ও প্রাথমিক তথ্যের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে থাকি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আমাদের পুলিশের বডি অন ক্যামেরা থাকবে। ঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা জনবল বৃদ্ধি এবং টহল টিম মোতায়েনের ব্যবস্থা করব। ভোটকেন্দ্র নাশকতাকারী হিসেবে যারা আমাদের কাছে বিবেচিত, যারা ভোটকেন্দ্রে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, তাদের আটক বা বাসায় রেড দেওয়া নিয়ে কাজ করছি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

