নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এক ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও তার সহযোগীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তাদের বসতঘর থেকে দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের নৈহাটি গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ের একটি রেইডিং টিম।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, চিরাম ইউনিয়নের নৈহাটি গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে মো. জুয়েল মিয়া (৪২) এবং একই গ্রামের মৃত নবী নেওয়াজ তালুকদারের ছেলে ও চিরাম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) মো. ছন্দু মিয়া (৩৮)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন নৈহাটি গ্রামের একটি বাড়িতে বিপুল পরিমাণ মাদক মজুত রয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর ৬টা ১০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ১০ মিনিট পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জুয়েল মিয়া ও ছন্দু মিয়ার দক্ষিণমুখী টিনশেড বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে দুটি পৃথক প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখা এক কেজি করে মোট দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসি জানায়, উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। পরে জব্দ করা আলামতসহ দুই আসামিকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবারে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল হুদা বাদী হয়ে আটক দুইজনের বিরুদ্ধে বারহাট্টা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

