কুমিল্লায় বাজারে নৈরাজ্য, ২১ টাকার সার ৪০ টাকা

কুমিল্লায় বাজারে নৈরাজ্য, ২১ টাকার সার ৪০ টাকা
প্রতীকী ছবি

সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে কুমিল্লার কৃষকদের। কোথাও ২৭ টাকা কেজির ইউরিয়া বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, ২১ টাকা কেজির পটাশের দাম নেওয়া হচ্ছে ৩৫ টাকা। একইভাবে ডিএপি সারও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে বেড়ে যাচ্ছে ফসল উৎপাদনের খরচ। অন্যদিকে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বাড়ছে লোকসানের শঙ্কা। জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজার ঘুরে কৃষকদের এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, সরকারনির্ধারিত দামে সার চাইলেই অনেক ডিলার সংকটের কথা বলছেন। আবার কেউ কেউ পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। ফলে কৃষি উপকরণে ভর্তুকি দিয়ে সরকার কৃষকদের যে সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে, মাঠপর্যায়ে তার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

জেলার বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, লালমাই, বরুড়া, চৌদ্দগ্রাম ও সদর দক্ষিণসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে সারের বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের রামপাল, সমেশপুর ও সিন্দুরিয়াপাড়া গ্রামের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা স্থানীয় সাহেবের বাজারের ডিলারদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ইউরিয়া সার ৪০ টাকায় কিনছেন। এ ছাড়া বাজারে চিকন দানার ইউরিয়া সার পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের।

ওই এলাকার কৃষক রাব্বি, আনোয়ার মেম্বার, ইকবাল হোসেন, ফরিদ ও নন্দনাথ জানান, সরকারনির্ধারিত দামে সার না পাওয়ায় তাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের সার কিনতে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে ফসল ও চারা উৎপাদনে লাভের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।

কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫০ কেজির এক বস্তা টিএসপি সার আগে ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা কিনতে হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার টাকায়। সরকারনির্ধারিত প্রতি কেজি ২১ টাকার পটাশ সার বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। একইভাবে ২১ টাকা কেজি দামের ডিএপি সার বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকায়। অন্যদিকে ২৭ টাকা কেজি দামের ইউরিয়া সার কিনতে হচ্ছে ৪০ টাকায়।

সারের বাড়তি দামের বিষয়ে বুড়িচং উপজেলার সদর বাজারের সার ব্যবসায়ী ও বুড়িচংয়ের জগৎপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল করিম এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের হাসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জানান, সরকারনির্ধারিত দামে সার কিনে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পরিবহন খরচ বেশি পড়ছে। এ কারণে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করতে হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

তবে শুধু বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়াতেই নয়, কুমিল্লা সদর দক্ষিণের বিজয়পুর ও রতনপুর, লালমাইয়ের বাগমারা, ভূশ্চি ও হাজতখোলা, বরুড়ার আমড়াতলী ও খোশবাস এবং চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার, কাইচ্ছুটি ও আমানগন্ডাসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে বলে স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন। আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের আড়াইওরা ও আলেখারচর এবং পাঁচথুবী ইউনিয়নের বাগবের, গোলাবাড়ী ও রাচিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের কাছ থেকেও নির্ধারিত দামের বেশি দিয়ে সার কেনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কৃষকদের ভাষ্য, বাড়তি দামে সার কিনে উৎপাদন খরচ মেটাতে গিয়ে তারা আর্থিক চাপে পড়ছেন। অথচ উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত না হওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আয় বাড়ছে না। এতে কৃষিকাজে আগ্রহ হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে তাদের মধ্যে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, সরকারনির্ধারিত দামের বাইরে কোনো ডিলার সার বিক্রি করতে পারবেন না। প্রতি কেজি সারে এক পয়সাও বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সারের দাম নিয়ে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন