বরিশালের কীর্তনখোলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুটি ড্রেজার ও তিনটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
মঙ্গলবার কীর্তনখোলা নদীর জুনাহার এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। বরিশাল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি দল এতে অংশ নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কীর্তনখোলা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন চলে আসছে। অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ, তীরবর্তী এলাকা ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম সম্প্রতি ঢাকায় বদলি হয়েছেন। দু-এক দিনের মধ্যে তার নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে বদলিজনিত বিদায়ের আগমুহূর্তেও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তার এমন তৎপরতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয়রা। কেবল দিনের বেলায়ই নয়, এর আগে রাতের আঁধারেও তিনি একাধিকবার নদীতে অভিযান পরিচালনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম বলেন, আমি নদীতে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেছি। আমার ঢাকায় বদলি হয়েছে, হয়ত বরিশালে আর দু-একদিন আছি। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত এখানে দায়িত্ব পালন করছি, নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নদী ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকারের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কীর্তনখোলা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

