নির্বাচনের ঠিক দুই দিন আগে চট্টগ্রামের পটিয়ায় টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কার্ড বিতরণের নামে একটি দলের পক্ষে ভোট চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর ডা. ফরিদুল আলম।
৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাতে জামায়াতের পটিয়াস্থ প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট শাহজাহান মুহাম্মদ মহিউদ্দীন এ অভিযোগ তোলেন এবং প্রশাসনের পক্ষপাতের কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগমুহূর্তে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে এই কার্ড বিতরণ শুরু হয় বলে তারা জানতে পারেন। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)কে অবহিত করেছেন বলেও দাবি করেন।
শাহজাহান মুহাম্মদ মহিউদ্দীন বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগে কেন এ ধরনের কার্ড বিতরণ করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শুধু হাবিলাসদ্বীপ নয়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও একইভাবে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সরকারি অফিস থেকে কীভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছি। গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব পালন করা আমার কাজ নয়। প্রশাসনের দায়িত্ব রয়েছে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার। এই ধরনের কার্যক্রম নিন্দনীয় এবং এটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারাই এই স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডগুলো বিতরণ করছে। এতে করে নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে তারা শঙ্কিত। এ কার্ড বিতরণ করে একটি দল তাদের পক্ষে ভোট চাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি জসিম উদ্দিন, পৌরসভা জামায়াতের আমির মাস্টার সেলিম উদ্দিন, কালারপোল থানা জামায়াতের আমির মাস্টার নাছির উদ্দিন, পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি নজরুল ইসলামসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অভিযোগের বিষয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাচনি সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফারহানুর রহমান জানান, টিসিবি কার্ড বিতরণের কাজ ইউনিয়ন পরিষদের। নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর টিসিবি কার্ড বিতরণ করা যাবে না—এ বিষয়ে কোনো অফিস আদেশ নির্বাচন কমিশন বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রদান করা হয়নি।
অধিকন্তু গত ২৫ জানুয়ারি (অর্থাৎ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে) টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে পটিয়াসহ চট্টগ্রাম জেলার মোট ১০টি উপজেলার জন্য নতুন কার্ড ইস্যু করে বিতরণের জন্য প্রেরণ করা হয়। যদি কার্ড বিতরণে সরকারিভাবে কোনো বাধা-নিষেধ থাকত, তাহলে টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয় কার্ডগুলো বিতরণের জন্য প্রেরণ করত না।
তবে কার্ড বিতরণের সময় কেউ যদি কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য ভোট প্রার্থনা করে থাকে, তবে তা অবশ্যই নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন। এ বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

