গারো পাহাড়ে থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন

শাহরিয়ার মিল্টন, শেরপুর

গারো পাহাড়ে থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড় এলাকার বিভিন্ন নদী, ঝরনা, ছড়া বা ঝোড়া থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর তোলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন ও বন বিভাগের অভিযান সত্ত্বেও প্রভাবশালী একটি চক্র দিনে ও রাতের আঁধারে বালু তোলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে পাহাড়ি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বনাঞ্চল হুমকির মুখে পড়ছে। বন বিভাগের লোকবলের অভাবে বালু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েও হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত ৪ জুন রাতে ট্রাকসহ বালু আটকের ঘটনায় গজনী বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজসহ এক বন রক্ষীর ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছিল স্থানীয় বালু সন্ত্রাসীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের বনরানী, দরবেশতলা, মালিটিলা ও হালচাটি এলাকাসহ গারো পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানের ছড়া বা ঝোড়া থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালু এবং ছোট ছোট পাথর তোলা হচ্ছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের কারণে কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এক সপ্তাহ ধরে আবার বালু তোলা শুরু হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায়, তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পান না, যার কারণে এই অবৈধ কার্যক্রম অপ্রতিরোধ্যভাবে চলছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের লোকজন এই অবৈধ কারবারিদের ভালোভাবে চেনেন, কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এভাবে প্রকাশ্যে বালু ও পাথর তোলার পেছনে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নীরব ভূমিকা থাকতে পারে। না হলে দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চলতে পারত না। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বন বিভাগের গজনী বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ খান। তিনি বলেন, বালু তোলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এ কাজে জড়িত নন। অবৈধ বালু ও পাথর তোলা বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো জানান, গত ২২ জুন ভোরে গজনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে তোলা বালু পরিবহনের সময় মাহিন্দ্র ট্রাক্টরচালিত ছয়টি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘শাইন্’ -এর নির্বাহী পরিচালক মুগনিউর রহমান মনি জানান, নির্বিচারে ও অপরিকল্পিত বালু ও পাথর তোলা এবং গাছ কাটার ফলে গারো পাহাড়ের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। এতে করে মানুষ ও পশু-পাখিসহ পরিবেশগতভাবে কেউই এই ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পাবে না। প্রকৃতিকে তার নিজের নিয়মে চলতে দিতে হবে। তাই এখনই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে গণসচেতনতা তৈরিতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

রাংটিয়া রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক তানভীর আহমেদ ইমন বলেন, অবৈধ বালু তোলার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারপরও যদি বালু তোলা চলে, তাহলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল আমীন বলেন, অবৈধ বালু তোলার খবর পাওয়া মাত্রই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও কারাদণ্ড, কোথাও অর্থদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। ড্রেজার মেশিন জব্দ ও পাইপলাইন ধ্বংস করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...