টাঙ্গাইলের মির্জাপুর শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজ কেন্দ্রের একটি কক্ষের ভুলবশত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এইচএসসি প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে।
পরীক্ষার্থী ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পৌরসদরে অবস্থিত শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজ কেন্দ্রের অডিটরিয়াম কক্ষে প্রথমে ৩০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণ করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর তাদের সৃজনশীল প্রশ্ন দেওয়া হয়। এ সময় ভারতেশ্বরী হোমসের এক পরীক্ষার্থীকে নতুন সিলেবাসের প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ২০২৫ সালের বাংলা প্রথমপত্রের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।
পরীক্ষা চলার প্রায় ২০ মিনিট অতিবাহিত হলে ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ মন্দিরা চৌধুরী ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জুলফিকার হায়দার ওই কক্ষ পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ বিষয়ে অভিযোগ পান। পরে ভুলের বিষয়টি নিশ্চিত হলে ওই শিক্ষার্থীকে ২০২৬ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন দেওয়া হয়। জানাজানি হলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়।
ভারতেশ্বরী হোমসের ওই শিক্ষার্থী বলেন, অন্যদের সঙ্গে তার প্রশ্ন না মেলায় সন্দেহ হয়। পরে তিনি ভালোভাবে খেয়াল করে দেখেন তাকে ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২০ মিনিটি অতিবাহিত হয়ে গেছে।
ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ মন্দিরা চৌধুরী বলেন, তিনি ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পরিদর্শনে না গেলে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেত।
ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কেন্দ্র সচিব ওসমান গণি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দায়িত্ব অবহেলার কারণে ওই কক্ষের দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষককে চলতি বছরের পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মির্জাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জুলফিকার হায়দারও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবীব বলেন, এ বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।
উল্লেখ্য, চলতি বছর মির্জাপুর উপজেলার ১০টি কলেজ থেকে (কারিগরিসহ) ৪টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৯৩৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে ১ হাজার ৯০৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে ৩৬ জন অনুপস্থিত রয়েছেন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

