নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চলখ্যাত (আত্রাই-রাণীনগর) উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের নির্বাচনি আসন নওগাঁ-৬। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হবে এমনটাই ধরে নিয়ে জোরেশোরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন (আত্রাই-রাণীনগর) দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী আত্রাই উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য খবিরুল ইসলাম, মাঠে ময়দানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। প্রার্থিতা দলীয়ভাবে চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই মাঝে মধ্যেই এই নির্বাচনি এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন করছেন তিনি। অন্যদিকে বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠে ময়দানে চষে বেড়াচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বিভিন্ন কৌশলে নেতাকর্মীদের কাছে টানার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
পাশাপাশি সমমনা ইসলামী দলগুলো তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মাঠপর্যায়ে জরিপ করছেন। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই আসন থেকে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ইসলামী আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জি. মো. আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে রাণীনগর উপজেলার চকাদিন মাদরাসায় এক মতবিনিময় সভার মধ্য দিয়ে প্রার্থী নির্বাচনের কাজ শেষ করেছে। দলীয় ফোরাম থেকে নওগাঁ-৬ আসনের ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীর নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
জানা গেছে, এক সময়ে আতঙ্কিত জনপদ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই এলাকা বর্তমানে শান্তির জনপদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দিন এই আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে হারিয়ে প্রায় ৩৬ বছর পর এই আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন ইসরাফিল আলম। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, পোস্টার ও ব্যানারের মাধ্যমে গত ঈদুল আজহার শুভেচ্ছার মধ্য দিয়ে দলীয় মনোনয়নের আশায় মাঠপর্যায়ে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা মজবুত করতে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। সুযোগ পেলেই তারা ভোটারদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা মাঠ চষে বেড়াচ্ছে তারা হলেন, জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী আত্রাই উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য খবিরুল ইসলাম, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৯০ দশকের আন্দোলনের ছাত্রনেতা আমিনুল ইসলাম বেলাল, আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু, রাণীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এছাহক আলীকে আলাদা আলাদাভাবে ভোটের মাঠে নানা রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন।
জামায়াতের একক প্রার্থী খবিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুশৃঙ্খল একটি ইসলামি রাজনৈতিক দল। এ দলে কেউ একক কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আত্রাই-রাণীনগরের জনগণ যদি আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে তাহলে আগামীতে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা, নির্বাচনি এলাকায় কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি উৎখাত করতে যা যা পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার তা আমি করব।
নওগাঁ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বেলাল বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বিদায়ের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার আসবে। এটাই আমাদের চাওয়া-পাওয়া। এই নির্বাচনে নওগাঁ-৬ আসন থেকে নির্বাচন করার লক্ষ্যে মাঠে ময়দানে কাজ করছি। বিএনপি এবার যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সৎ, যোগ্য, মেধাবী এবং ক্লিন ইমেজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। আমি একজন যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে দলীয় মনোনয়ন পাব। আমি নির্বাচিত হতে পারলে নির্বাচনি এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের কাজ করব। এখানে চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জুলাই-২০২৪ আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারী রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা সম্প্রতি নওগাঁ জেলা সফরের অংশ হিসেবে রাণীনগরের কুজাইল বাজারে এক পথসভার মধ্য দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে প্রার্থী থাকবে বলে আভাস দেন। এ ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলো সম্ভাব্য প্রার্থীর তৎপরতা নেই বললেই চলে। এই আসনটি দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত। ১৬টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭০৬ জন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

