আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

‘ভাইস্যা যাওয়ার ডরে মাইয়াডারে মোর খালা বাড়িতে রাইক্কা আইছি’

শামসুল হক, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)

‘ভাইস্যা যাওয়ার ডরে মাইয়াডারে মোর খালা বাড়িতে রাইক্কা আইছি’

পানিতে ভাইস্যা যাওয়ার ডরে (ভয়ে) ৬ বছরের মাইডারে ওর খালা বাড়িতে রাইক্কা আইছি । কতদিন হইছে ওর মুখটা দ্যাহি না। যে কোনো সময় পানিতে মোগো ভাসাইয়া লইয়া যাইতে পারে। কয়েকদিন ধইরা মানুষ আসে আর ছবি তুইল্যা নিয়া যায়। কামের কোন কিছু দেহি না। এই হানদিয়া একটু বানডা (বাঁধ) দিয়া দ্যান যেন মোগো ঘরে আর পানি না ঢোকতে পারে। চোখের পানি মুছতে মুছতে এ কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদের তীরবর্তী মেহেন্দিয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা চম্পা বেগম (৪০)।

বিজ্ঞাপন

চম্পা বেগমের স্বামী আবুল কালাম মল্লিক পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা। এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে তাদের পরিবার। পায়রা নদের তীরে ভাঙা বেড়িবাঁধের পাশে তাদের বসতঘর।

গত ১৮ দিন আগে নিন্মচাপের প্রভাবে জোয়ারের পানির তোরে মেহেন্দিয়াবাদ গ্রামের মল্লিক বাড়ির সামনে প্রায় ৩০০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। সেই ভাঙা বেড়িবাঁধের ২০ গজ দূরে গৃহবধূ চম্পা বেগমের বসতঘর। জোয়ারের সময় চম্পা বেগমের ঘরে পানি ঢুকে আর ভাটায় শুকিয়ে যায়। যে কোনো সময় তার বসতঘরটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ঝুঁকি জেনেও সেখানে বসবাস করছেন তারা।

মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে মেহেন্দিয়াবাদ গ্রামে মল্লিক বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা যায়, পায়রা নদীর প্রায় ৩০০ মিটার পানি রক্ষা বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। ভাঙা অংশের ২০ গজ দূরে রয়েছে কয়েকটি বসতঘর। জোয়ারের পানি স্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলে বসত ঘরগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। নির্ঘুম রাত কাটে পরিবারগুলোর।

ভেঙ্গে যাওয়া বেরিবাঁধ সংলগ্ন বাসিন্দা লাকী বেগম বলেন, পায়রার ভাঙনে চারবার তাদের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে । প্রত্যেকবারই নতুন করে ঘর তোলা লাগছে। এখন যে অন্য কোথাও গিয়ে বাড়ি করব সে জমিও নেই। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে এখানেই থাকতে হচ্ছে।

মেন্দিয়াবাদ গ্রামের কৃষক মো. কবেদ আলী বলেন, গত ১৮ দিন আগে মল্লিক বাড়ির সামনে দিয়া বেড়িবাঁধের বড় একটি অংশ নদীতে ভাইঙা গেছে। ভাঙা অংশ এখনও মেরামত না করায় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। পানিতে ডুবে গেছে মেহেন্দিয়াবাদ, চরখালী ও রানীপুরসহ কয়েকটি গ্রাম। পানিতে তলিয়ে কৃষকের আমনের বীজ নষ্ট হয়ে গেছে। চাষাবাদে ব্যহত হচ্ছে শত শত একর জমি।

দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ভেঙ্গে যাওয়া বেরিবাঁধের অংশটুকু দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম আমারদেশকে বলেন, মেহেন্দিয়াবাদ গ্রামে প্রায় ৩০০ মিটার বেরীবাঁধ ভেঙে গিয়ে পায়রা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। মাটি নিয়ে একটু সমস্যা আছে। স্থানীয় জমির মালিকদের সাথে কথা বলে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. রাকিব আমার দেশকে বলেন, মির্জাগঞ্জ উপজেলার মেহেন্দিয়াবাদ-রাণীপুর গ্রামে বেরিবাঁধ মেরামতের জন্য মাটির ব্যবস্থা করতে গিয়ে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে। বেরিবাঁধের ভাঙা অংশ দ্রুত মেরামত করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন