আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সীমারেখা সাংবাদিকরাই ঠিক করবে: তথ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ব্যুরো

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সীমারেখা সাংবাদিকরাই ঠিক করবে: তথ্যমন্ত্রী

সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য জবাবদিহিতার সীমারেখা সাংবাদিকরাই ঠিক করবেন। আমি আপনাদের কাছে জানতে চাই এই জবাবদিহিতার সীমারেখা কতটুকু হলে আপনারা সর্ব্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করবেন। কেননা অতীতের সরকারের মতো শুধু সরকারের তরফ থেকে এই সীমারেখা নির্ধারণ করে দেওয়া না হোক। তাহলে আমাদের সরকার আর তাদের মধ্যে কোন তফাৎ থাকবে না। এজন্য আপনাদের সর্ব্বোচচ্ স্বাধীনতার জন্যই জবাবদিহির সীমারেখা আপনারাই নির্ধারণ করবেন।

বুধবার সন্ধ্যায় চিটাগাং ক্লাবে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, আপনাদের নির্ধারণ করা সীমারেখায় যেন কেউ প্রবেশ করতে না পারে। কোন গোয়েন্দা সংস্থা, কোন রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ অথবা রাষ্ট্র বহির্ভূত কোন হস্তক্ষেপ যাতে গণমাধ্যমকে কোন ধরণের বাধাগ্রস্ত করতে না পারে সেই দায়িত্ব পালন করতে তথ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তুত আছে ইনশাল্লাহ।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, অতীতের অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে, বর্তমান অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদেরকে পথ চলতে হবে। আমি ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়েছিলাম। বিএফইউজে, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ইউনিয়ন, এসোসিয়েশনসহ সব সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেছি। আমি আগামী আরো কয়েক মাস বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে তারপর আপনাদের সাথে মতবিনিময় করব। আমরা যৌথভাবে চলার পথনকশা তৈরি করার জন্য এসব কাজ করব। তারপর সেই পথনকশা ধরে আমরা যদি প্রকৃত অর্থে একটি স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে পারি তাহলে আমরা আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে যেতে পারব।

এসময় তথ্য মন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপন বণ্টন করার তেমন কোন নীতিমালা নাই। এখানে সরকারি দলের দয়া দাক্ষিণ্য অথবা তোষামোদি করাটাই হয়ে গেছে একটা মাধ্যম। আমরা যেই অনুদানগুলো দিয়ে থাকি সেখানেও কোন নীতিমালা নাই। ব্যাঙের ছাতার মতো পত্রিকা হচ্ছে। অনেক পত্রিকা মালিক আমাকে বলেছেন, একটা নীতিমালা থাকা দরকার। তারা বলেছেন, এতোগুলো পত্রিকা হলে সরকারের পক্ষে সেগুলো ভালোভাবে দেখভাল করাও সম্ভব হবে না। আবার বিভিন্ন রকমের গণমাধ্যম জন্ম নেওয়া যদি আমরা ঠেকাতে যাই তাহলে এটা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার মতো হয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করতে পারে কিনা সেটি দেখা হবে। যারা করবে তাদেরকে একভাবে দেখবে সরকার, আর যারা করবে না তাদেরকে আরেকভাবে দেখা হবে।

ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, যেই সমাজে নি:সংকোচে কথা বলা যায় না সেই সেই সমাজের বিবেকের তালা বদ্ধ থাকে, সমাজ অন্ধকারে থাকে। সাংবাদিকদের কথা বলার স্বাধীনতা দিতে হবে। একইসাথে সাংবাদিকরাও যেন কেউ দলদাস না হয়। আমরা যেন পেটডগ, মেটডগ না হয়। আমরা যেন ওয়াচডগ হয়। তাহলেই সাংবাদিকদের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।

ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...