নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী) আসনে বিএনপি প্রার্থীকে ভোট দেওয়ায় স্ত্রী ও তিন শিশুসন্তানের মা ফাতেমা আক্তারকে তালাকের পর তাদের দায়িত্ব নিয়েছে বিএনপি। ওই নারীর স্বামী ইদ্রিসের পছন্দের স্বতন্ত্র প্রার্থীকে (কাপ-পিরিচ) ভোট না দিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় ঘটনায় স্বামী ক্ষিপ্ত হন।
জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে স্বামী মো. ইদ্রিস স্ত্রী ফাতেমা আক্তারকে কাপ-পিরিচ মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য স্থানীয় কেশারপাড় ভোটকেন্দ্রে পাঠান। কিন্তু ফাতেমা কেন্দ্রে গিয়ে কাপ-পিরিচ মার্কায় ভোট না দিয়ে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেন।
ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরলে স্বামী তাকে জিজ্ঞাসা করেন কাপ-পিরিচ মার্কায় ভোট দিয়েছে কি না। উত্তরে স্ত্রী বলেন, তিনি ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়েছেন। এতে স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে বেদম মারধর করে বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দেন। এরই মধ্যে ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, কাপ-পিরিচ মার্কার প্রার্থী পরাজিত হয়েছে।
নির্বাচনের তিনদিন পর গত রোববার বাড়ি এলে স্ত্রী সন্ধ্যায় অসুস্থ মেয়েকে ডাক্তার দেখানোর জন্য স্বামী মো. ইদ্রিসকে বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে বলেন, তুই যাকে ভোট দিয়েছিস ওই বাপদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চিকিৎসা করা। একপর্যায়ে স্বামী বাড়ির লোকজনের সামনে স্ত্রীকে তিন তালাক দেন। বর্তমানে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী তার বাবার বাড়ি কেশারপাড় গ্রামে অবস্থান করছেন।
ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির ধানের শীষের বিজয়ী প্রার্থী জয়নুল আবেদিন ফারুকের নির্দেশে গত সোমবার রাতে সেনবাগ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব শহিদ উল্যার নেতৃত্বে উপজেলা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীর খোঁজখবর নেন এবং এক বস্তা চাল, ডাল, তেলসহ খাদ্যসামগ্রী দিয়ে আসেন।
এ ঘটনায় ফাতেমা আক্তারকে তালাকের বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে তিনি তালাকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মো. ইদ্রিসের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও ফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সরেজমিন তার বাড়ি গেলে ইদ্রিসের বাবা মো. রফিক বলেন, ভোট নিয়ে তালাকের ঘটনা ঘটেনি। তবে তৃতীয় বিয়ে করায় ও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার কারণে সাংসারিক ঝগড়ার জেরে তালাকের ঘটনা ঘটেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

