এক মাদ্রাসার সব শিক্ষার্থী ফেল, দায় নিচ্ছেন না শিক্ষক কিংবা বোর্ড

এক মাদ্রাসার সব শিক্ষার্থী ফেল, দায় নিচ্ছেন না শিক্ষক কিংবা বোর্ড

শিক্ষকের অবহেলা ও খামখেয়ালিপনায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার ভোকেশনাল শাখার ২৫ শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ওই মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক শামছুদ্দিন ২৫ শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষার উত্তরপত্র সময়মতো বোর্ডে প্রেরণ না করায় এমন বিপত্তি ঘটে বলে জানা গেছে। তবে ওই শিক্ষক বলছেন, যথাসময় তিনি ব্যবহারিক পরীক্ষার ফলাফল পাঠিয়েছেন। অথচ বোর্ড দেখাচ্ছে ফলাফল পায়নি। এখন শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, তাদের এই ক্ষতির দায় কার?

জানা গেছে, ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার ২০২৫ সালের ভোকেশনাল শাখা থেকে ২৫ শিক্ষার্থী অংশ নেন। সব বিষয়ে তারা নিয়মিত পরীক্ষা দেন। তাদের পরীক্ষাও যথারীতি ভালো হয়। ১০ জুলাই ফলাফল প্রকাশ হয়। এতে দেখা যায় পরীক্ষা দেয়া ২৫ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য।

হতাশ এক শিক্ষার্থী মোস্তফা বলেন, ‘আমরা অনলাইনের ফলাফল শিটে দেখি সব বিষয়ের নাম্বার আছে। শুধু ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট ট্রেনিং বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষার কোনো নাম্বার যোগ হয়নি। এ জন্য আমাদেরকে ফেল দেখানো হয়। পরীক্ষা চলাকালে শামছুদ্দিন স্যার ব্যবহারিক পরীক্ষার মালামাল কেনার কথা বলে টাকাও নিয়েছিলেন।’

এ বিষয়ে শিক্ষক শামছুদ্দিন বলেন, ‘আমি যথাসময়ে ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরপত্র পাঠিয়েছি। কিন্তু বোর্ডে‌র সার্ভারের সমস্যার কারণে এটা হয়েছে। আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের এমন সমস্যা হয়েছে। পরে আবার হাতে হাতে নম্বরপত্র বোর্ডে জমা দিয়েছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাদের ফলাফল চলে আসবে।’

সোমবার (১৪ জুলাই) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আনোয়ার মোল্লা জানান, বিষয়টি দুঃখজনক। শিক্ষক শামছুদ্দিনকে শোকজ করা হয়েছে। এমন সমস্যা নাকি আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক নম্বরপত্র আবার বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। আশা করি এই সপ্তাহে তাদের ফলাফল চলে আসবে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গাউছুল আজম বলেন, এমন ঘটনা আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হয়েছে। কারিগরি বোর্ড এসব সমস্যার তথ্য সংগ্রহ করছে। আগামী সপ্তাহে তাদের ফলাফল চলে আসবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন