দীর্ঘ আট বছর প্রশাসনিক ও ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার জটিলতায় থমকে থাকা চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রকল্প অবশেষে গতি পেয়েছে।
রোববার প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড স্থাপন এবং অবকাঠামো উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করা হয়। জেলা সদরের বাগাদী ইউনিয়নের ইসলামপুর গাছতলা এলাকায় স্থাপিত প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা হবে। এরপরই ভবন নির্মানের কাজ শুরু হবে।
শেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই প্রকল্পটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করে প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরা ধরেন তিনি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার সরকারি নীতির অংশ হিসেবেই প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন পায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জমি অধিগ্রহণ প্রসঙ্গে এমপি শেখ ফরিদ বলেন, প্রকল্পের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তারা আইনানুযায়ী শতভাগ ক্ষতিপূরণ পাবেন। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই। ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত কোনো জটিলতা দেখা দিলে সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প পরিচালক ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ডা. হারুন-অর-রশিদ। তিনি জানান, ইসলামপুর গাছতলা মৌজায় প্রায় ৩০ দশমিক ২ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম অনেকদূর এগিয়েছে। বর্তমানে জমির মালিকদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী তিন মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ শুরু করা সম্ভব হবে। এরপর অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শুরু হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসক একেএম সলিম উল্যা সেলিম, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সাহেলা নাজনীন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দ্বীন, ড্যাবের জেলা সভাপতি ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

