আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

দুই হাত দূর থেকে গুলি করে বিএনপি কর্মীকে হত্যা, ভিডিও ভাইরাল

চট্টগ্রাম ব্যুরো

দুই হাত দূর থেকে গুলি করে বিএনপি কর্মীকে হত্যা, ভিডিও ভাইরাল

চট্টগ্রামের রাউজানে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আবদুল হাকিমকে (৬৫) পিস্তল হাতে তিনজন দুই হাত দূর থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পাশে একটি রেস্টুরেন্ট থেকে এক ব্যক্তির ভিডিওতে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার মদুনাঘাট ব্রিজসংলগ্ন হাটহাজারী সড়কে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম নগরের এভার কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে সন্ধ্যা ৬টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আমার দেশের হাতে আসা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা রংয়ের প্রোডো টাইপের গাড়ির ভিতর ছিলেন আব্দুল হাকিম। সামনে হেলমেট পরা একজন তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ছেন তার দিকে। পাশে আরও একজন গাড়ির জানালার দিকে গুলি ছুড়ছেন। তার পাশে আরও একজনের কাছে অস্ত্র দেখা গেছে। দুজনের কাছে পিস্তল ছিল। বাকিজনের কোন টাইপের অস্ত্র ব্যবহার করেছেন, ভিডিওতে তা স্পষ্ট দেখা যায়নি।

আব্দুল হাকিম চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

নিহত মোহাম্মদ আবদুল হাকিম রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের পাচখাইন গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকায় হামিম অ্যাগ্রো নামে একটি গরুর খামারের মালিক। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে আবদুল হাকিম নিজ গাড়িতে করে খামার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। মদুনাঘাট ব্রিজের কাছে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুইজন দুর্বৃত্ত তার গাড়ির সামনে এসে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গাড়ির ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন। দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা দৌড়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে ততক্ষণে তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর পুলিশ গিয়ে গাড়িটি জব্দ করে এবং এলাকায় টহল জোরদার করে। গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রাউজানে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী অনুসারী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির অপর শীর্ষ নেতা গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রায়শই সহিংসতায় রূপ নেয়। গত এক বছরে রাউজান, সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই মিলিয়ে অন্তত ১৩ জন বিএনপি কর্মী হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিল এই দু’পক্ষের লোকজন। সবাইকে গুলি করেই হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, আবদুল হাকিমও সাম্প্রতিককালে দলীয় কোন্দলের কারণে একাধিকবার হুমকি পেয়েছিলেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, তার গরুর খামার ঘিরেও কিছু ব্যাবসায়িক বিরোধ ছিল। পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়, রাজনৈতিক নাকি ব্যক্তিগত কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, গুলির খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, কাছে থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। কারা জড়িত এবং কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা তদন্তের পর বলা যাবে।

তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এছাড়া নিহতের রাজনৈতিক ও ব্যাবসায়িক পরিচিতদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন