চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নাঈম ইরাকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শ্বাসনালি কেটে হত্যার বহুল আলোচিত মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে।
চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়া এ রায় ঘোষণা করবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু। মামলার একমাত্র আসামি নিহত ইরার প্রতিবেশী বাবু শেখ (৫০) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় এলাকায় এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। তদন্ত শেষে ১৫ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। ১৮ জুন আদালত অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। গত ৩০ জুন আসামির পরীক্ষা এবং ১ জুলাই আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২ জুলাই উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। পরে আদালত ৭ জুলাই রায়ের দিন ধার্য করেন।
অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, ঘটনার দিন আসামি বাবু শেখ শিশুটিকে ধর্ষনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ধারালো চুরি দিয়ে জবাই করে মৃত ভেবে সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ পাহাড়ের মাঝামাঝি পাহাড়ের খাদে ফেলে পালিয়ে যায়। কিন্তু গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় ইরা অলৌকিকভাবে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপরে উঠে এসে বাঁচার আকুতি জানায়। পরে সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও স্থানীয় সিএনজি চালকেরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইরা নিজের ওপর সংঘটিত পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা দেয়। দীর্ঘ দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ৩ মার্চ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানান, মামলাটি স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নিয়মিত তদারকি করা হলেও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে সময়মতো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
তাদের দাবি, একই ধরণের অন্য একটি হত্যা মামলার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন মাত্র দুই দিনের মধ্যে দেওয়া হলেও ইরার প্রতিবেদন পেতে দুই মাসেরও বেশি সময় লেগেছে। তদন্ত কর্মকর্তাকে পাঁচবার লিখিতভাবে তাগিদ দেওয়ার পর এবং বাদীপক্ষের আইনজীবীদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সময়মতো ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়া গেলে মামলার বিচার আরও আগেই শেষ করা সম্ভব হতো।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ মন্দির সংলগ্ন পাহাড়ে প্রতিবেশী বাবু শেখ ফুসলিয়ে ইরাকে নিয়ে যায়। মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজে শিশুটিকে নিয়ে তার পাহাড়ে ওঠার দৃশ্য ধারণ হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখ স্বীকার করে, ধর্ষণের চেষ্টা করার সময় শিশুটি চিৎকার দিলে সে মুখ চেপে ধরে সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে শ্বাসনালি কেটে দেয় এবং পরে তাকে পাহাড়ের খাদে ফেলে পালিয়ে যায়।ঘটনার পরদিন সীতাকুণ্ড উপজেলার কাজীপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

