বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছ থেকে দর কষাকষি শেষে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের সামনের জায়গাটি পুনরুদ্ধারের পর চট্টগ্রামে আধুনিক গ্রিন ইকোপার্কের আদলে আবারও জিয়া শিশু পার্ক গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকাল চারটায় সংস্কৃতিমন্ত্রী এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর সাথে চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
মেয়র বলেন, সেনাবাহিনীর কাছ থেকে পার্কের জায়গাটি আমরা আলোচনার মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করেছি। এটি আবার ‘জিয়া শিশু পার্ক’ নামেই চালু করা হবে।
তিনি জানান, পার্কটিকে একটি পরিবেশবান্ধব গ্রিন ইকোপার্ক হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে কোনো স্থায়ী স্থাপনা থাকবে না। সবুজে ঘেরা এই পার্কে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ নির্মল পরিবেশে সময় কাটাতে পারবেন।
মেয়র বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জিয়া জাদুঘরকে ধ্বংস বা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। গত ১৬ বছরে জাদুঘরটিকে অবহেলা ও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা রাখা হয়েছিল। এমনকি দর্শনার্থীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘ সময় ধরে মানববন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেছি। জিয়া জাদুঘরকে হেরিটেজ ঘোষণার জন্য সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি, কিন্তু তখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
চসিক মেয়র জানান, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার ও ঘোষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে তাঁর শাহাদাতের স্মৃতি সংরক্ষণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি এই ইতিহাস ধারণ না করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মেয়র আশা প্রকাশ করে বলেন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দ্রুত জিয়া জাদুঘরের কাজ শুরু হবে এবং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
এদিকে, জিয়া জাদুঘর সংস্কার ও সংরক্ষণের পাশাপাশি খুলশীর বধ্যভূমি সংরক্ষণ এবং বিপ্লব উদ্যানের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান মেয়র।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) আগ্রহে ১৯৯২ সালে ১৩ জুলাই নগরের কাজির দেউড়ি সংলগ্ন জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের সামনে তিন একর জমিতে শিশুপার্ক স্থাপন করতে চায় চসিক৷ সংস্থাটিকে তখন অনাপত্তি দিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে ১৯৯৪ সালে ঢাকার প্রতিষ্ঠান ভায়া মিডিয়া বিজনেস সার্ভিসেস লিমিটেডকে ২৫ বছরের জন্য জমিটি প্রথমবার ইজারা দিয়েছিল সিসিসি। পার্কটির শুরুতে নাম ছিল জিয়া শিশু পার্ক৷ পরবর্তীতে এটির কয়েক দফায় নাম পরিবর্তন করা হয়৷ ২০১৯ সালের নভেম্বরে ওই ইজারার মেয়াদ শেষ হয়৷ ২০২০ সালে আবারও প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ বছরের জন্য জায়গাটি ইজারা দেয় চসিক। ২০২১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগের শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল পার্কটির জায়গার ইজারা বাতিল করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি কর্পোরেশনকে চিঠি দেয়। একইসাথে পলাতক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা নুরুল আজিম রণি নামে বেনামে বিভিন্ন সংগঠন খুলে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ও জিয়া শিশু পার্কটি উচ্ছেদের দাবি জানায়। তারই প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর পার্কটিকে সিলগালা করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করে সেখানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্পত্তি হিসেবে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

