ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সোনালি ধানে ভরে উঠেছে মাঠ। বোর ধান কাটার ভরা মৌসুমে শ্রমিক সংকটে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকেরা । দুই মণ ধানের দামেও একজন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে। দুই মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক। সময়মতো শ্রমিক না পাওয়ার কারণে চরম বিপাকে পড়েছে কৃষকেরা। পাকা ধান নষ্ট হচ্ছে জমিতে । ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ার চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বর্তমানে একজন শ্রমিককে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। তারপরও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ বাজারে এক মণ কাঁচা ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকায়। অর্থাৎ, দুই মণ ধানের দাম দিয়েও একজন শ্রমিকের মজুরি মেটানো যাচ্ছে না। এক মণ শুকনো ধানের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নবীনগর পৌরসভার আলীয়াবাদ গ্রামের মাসুদ করিম ও নূরে আলম ডালিম বলেন, শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ হয়ে গেছে, এখন ধান ঘরে তুলব কীভাবে কিছুই বুঝতে পারছি না। ধান কাটতে যত টাকা খরচ হবে এর অর্ধেক টাকার ধানও পাবো না। ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
আলীয়াবাদ গ্রামের কৃষক লিটন মিয়া বলেন, হালচাষ, সেচ, সার, কীটনাশক এবং শ্রমিকের মজুরিসহ ধান উৎপাদনে সবকিছুর খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু বাজারমূল্য সেই তুলনায় ধানের দাম বাড়েনি, এরমধ্যে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ধানের অনেক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে, ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১৮হাজার ১১৫ হেক্টর
জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। তার মধ্যে কালবৈশাখী ঝড়ে ১৫১ হেক্টর জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। এবার ফলন ভালো হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরবর্তীতে টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকার ঘোষিত দরে ধান ক্রয় শুরু হলে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আশা করছি।
নবীনগর উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ( ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) রনজিত কুমার দাস মঙ্গলবার দুপুরে বলেন, নবীনগর উপজেলা খাদ্য গুদামের ধারণ ক্ষমতা ১ হাজার টন হলেও, সরকারীভাবে এবছর নবীনগর উপজেলায় সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে ১হাজার ৭৯২ টন শুকনো ধান ক্রয় করার লক্ষমাত্রা রয়েছে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

