ক্লান্ত হয়ে চেয়ারে বসায় বৃদ্ধ নৈশপ্রহরীকে পেটালেন যুবদল নেতা

ক্লান্ত হয়ে চেয়ারে বসায় বৃদ্ধ নৈশপ্রহরীকে পেটালেন যুবদল নেতা

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় নৈশ প্রহরীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। পিটিয়ে আহত করা যুবদল নেতার নাম দেলোয়ার হোসেন দোলন। তিনি বুড়িচং উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ও বুড়িচং বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক।

বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত নৈশপ্রহরী বর্তমানে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ১১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাত প্রায় আড়াইটার দিকে বাজার পাহারার মাঝে কিছুটা বিশ্রামের জন্য এক মোড়ে বসেন দুলা মিয়া। এ সময় যুবদল নেতা দেলোয়ার হোসেন সেখানে এসে পাহারাদারের ওপর ক্ষিপ্ত হন। কেন পাহারা না দিয়ে বসে আছেন-এমন প্রশ্ন করলে দুলা মিয়া জানান, তিনি কিছুক্ষণ আগে বসেছেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে দেলোয়ার হাতে থাকা কাঠের দণ্ড দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। এতে তাঁর পিঠ ও ঘাড়ে একাধিক আঘাত লাগে।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, একজন শ্রমজীবী বৃদ্ধ পাহারাদারকে এভাবে নির্মমভাবে মারধর করা মানবিকতার পরিপন্থী। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বুড়িচং গ্রামের শাহাদাত হোসেন বলেন, "বুড়িচং বাজার কমিটির সেক্রেটারি বুড়িচং পূর্ব পাড়ার দুলা মিয়ার উপর নির্মম অত্যাচার চালায়। এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি । পাশাপাশি দোষী ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।"

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুমিল্লা উত্তর জেলা সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন বলেন, বুড়িচং পূর্ব পাড়ার সকল মানুষ হাসপাতালে অবস্থান করছে। আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে জানিয়েছি। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

হাসপাতালের বেডে শুয়ে আহত দুলা মিয়া সাংবাদিকদের বলেন,তুই কি সাব হয়েছিস নাকি বলে আমার হাতের লাঠি দিয়ে আমাকে আঘাত করে । তিনি আমাকে কুকুরের মতো পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। প্রাণ বাঁচাতে তাঁর পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে হয়। তবুও তিনি ক্ষান্ত হননি। পরে অন্য পাহারাদাররা এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।”

নৈশপ্রহরীকে কেন পিটিয়ে আহত করেছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িচং বাজার কমিটির সেক্রেটারি ও বুড়িচং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দোলন বলেন, দুই দিন আগে বাজার থেকে মোবাইল চুরি হয়েছে । আমরা বাজারে পাহারাদার রেখেছি যেন চুরি ডাকাতি না হয় । কিন্তু উনারা পাহারায় বসে সজাগ না থেকে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে । আমরা বলেছিলাম রাতে পাহারার সময় কোন মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না । আমি গতকাল রাতে দুইবার উনার সামনে দিয়ে আসা-যাওয়া করেছি । কিন্তু উনি বলতেই পারেনা কে আসা-যাওয়া করেছে । এই কারণেই বাজারের নৈশপ্রহরী দুলা মিয়ার সাথে ঝামেলা হয়েছে।

বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, “ বাজারে একটি ঘটনার কথা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন