কসবায় নতুন ইপিজেড খুলবে সম্ভাবনার নতুন দ্বার

মফিজুর রহমান লিমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

কসবায় নতুন ইপিজেড খুলবে সম্ভাবনার নতুন দ্বার
ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় নতুন একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। চলছে ইপিজেড স্থাপনে সব ধরনের প্রস্তুতি । কসবায় সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিচ্ছে নতুন সরকার।

জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) তানভীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কসবায় ইপিজেড স্থাপনের কথা জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ইপিজেড স্থাপনে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, এ অঞ্চলের আশপাশে রয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো। আশুগঞ্জ নদীবন্দর আমদানি-রপ্তানির দ্রুততম রুট হিসেবে পরিচিত। আখাউড়া রেলওয়ে জংশন অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগব্যবস্থা। আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া তিতাস গ্যাস ফিল্ড দেশের অন্যতম প্রধান গ্যাস সরবরাহ উৎস। কসবা অঞ্চলের সালদা, কাশীরামপুর ও তারাপুর গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খননের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও পরিবহন—শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা অঞ্চলকে আরো এগিয়ে দিবে।

এ অঞ্চলের অন্যতম বড় শক্তি এর সহজ ও দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টার দূরত্ব। ঢাকা তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা, সিলেট প্রায় তিন ঘণ্টা এবং ভারতের আগরতলা শহর মাত্র এক ঘণ্টার সড়ক পথ। দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে এমন সংযোগ যেকোনো বড় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অসাধারণ সুবিধা তৈরি করবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে গত ২৪ মার্চ কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের তিনলাখপীর এলাকায় একটি ইপিজেড স্থাপনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানকে চিঠি দেন কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কসবার তিনলাখপীর এলাকায় এ ইপিজেড স্থাপন করা হবে । এটি কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। তিনলাখপীর এলাকা থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর এবং আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের দূরত্বও সীমিত। সড়ক ও রেলপথে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটের সহজ যোগাযোগের কারণে কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে আদর্শ স্থান হচ্ছে তিনলাখপীর এলাকা। এখানে বিশাল আয়তনের খাস জমিও রয়েছে। এর ফলে তিনলাখপীর এলাকাটি ইপিজেড স্থাপনের জন্য উপযোগী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ‘তিনলাখপীরে প্রচুর খাস জমি রয়েছে । প্রয়োজনে ব্যক্তি মালিকানার জমিও সহজে অধিগ্রহণ করা যাবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনারও ভালো সুবিধা রয়েছে। এখানে ইপিজেড হলে কসবা-আখাউড়াসহ পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে যাবে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহমুদা আক্তার জানান, কসবায় ইপজেড নতুন সরকারের উন্নয়নের শুভযাত্রা বলে আমরা মনে করি । এখানে ইপিজেড হলে বদলে যাবে কসবার চিত্র। মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে দেখা দিবে নতুন সম্ভাবনা ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন