কক্সবাজারের সীমান্ত জনপদ টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানকালে চিহ্নিত মাদক কারবারি ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ফরিদুল আলম ওরফে ডাকাত ফরিদকে গ্রেপ্তার করায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় র্যাবের আটজন সদস্য আহত হয়েছেন। ওই সময় র্যাবের একটি মোটরসাইকেলসহ দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। মোটরসাইকেল দুটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
গ্রেপ্তার হওয়া মো. ফরিদুল আলম ওরফে মেহেদী হাসান টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া এলাকার মো. সিদ্দিক আহমেদ ওরফে ব্ল্যাক সিদ্দিকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক চোরাচালান, মানিলন্ডারিংসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। তিনি সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের টেকনাফ সদর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া ফুটবল খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারে দায়িত্বরত র্যাব-১৫ এর টেকনাফ সিপিসি-১ স্কোয়াড কমান্ডার সোহেল রানা।
তিনি জানান, নাজিরপাড়ায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে র্যাবের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযান চালানো হয়। ওই সময় মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীরা র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং র্যাবের একটিসহ দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় তিনি নিজেও আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে র্যাবের আরও সাত সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে এক শীর্ষ মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ওই সময় নাজিরপাড়া ফুটবল মাঠে স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক ইফতার মাহফিল চলছিল। সেখানে উপস্থিত টেকনাফ সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. ফরিদুল আলমকে র্যাব সদস্যরা আটক করলে এলাকাবাসির মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কিছু লোক র্যাবের ওপর হামলা চালায় এবং মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এদিকে খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার স্বীকার করেছেন টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, র্যাবের অভিযানের সময় ওই এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। র্যাব অভিযোগ দিলে হামলাকারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ সরকার জানান, আহত অবস্থায় র্যাবের সাত সদস্যকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে ধৃত ফরিদুল আলমের বাবা মো. সিদ্দিক বলেন, আমাদের ইফতার মাহফিলের সময় সাদা পোশাকে ১০-১৫ জন র্যাবের সদস্য কোন কথা ছাড়াই আমাদের ঘিরে ফেলে। এসময় স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে চিৎকার শুরু করে। এতে তারা আমাদের উপর হামলা চালায়।
তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিহিংসার কারণে আমার ছেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়েছিল। আর সেই মামলায় জামিনে রয়েছে, কোন মামলার ওয়ারেন্ট ছিল না। কিন্তু আমাদের হয়রানি করতে এই ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে।
ফরিদুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুই ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্তত ১০টি রয়েছে ইয়াবা মামলা। এছাড়াও মানি লন্ডারিং, অস্ত্র মামলা, হত্যা মামলা, হত্যাচেষ্টা মামলাসহ নানা অপরাধের মামলা রয়েছে। এ গুলোর মধ্যে ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে ১৭টি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

