কুমিল্লার নিমসার বাজারে যানজটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগ চরমে

কুমিল্লার নিমসার বাজারে যানজটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগ চরমে
নিমসার বাজারে যানজটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগ চরমে। ছবি: আমার দেশ

কুমিল্লার নিমসার বাজারে যানজটে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে । এখানে প্রতিদিনের সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে যানজট। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। এই ভোগান্তি নিরসনের কোনো উদ্যোগ নেই ।

জানা গেছে, কুমিল্লার নিমসার বাজারে সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে নানা স্থাপনা । এতে দখল হয়ে যাচ্ছে মহাসড়ক। এছাড়াও মালামাল লোডিং-আনলোডিং করানোর ফলে বাজার এলাকাজুড়ে যানজট দেখা দিচ্ছে ।

বিজ্ঞাপন

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার বাজার। একসময় স্থানীয় মানুষ আশপাশের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য দৈনন্দিন কেনাকাটায় বাজারে ভিড় করলেও কালের বিবর্তনে বাজারের পরিধি যেমন বাড়ে, তেমনি সারা দেশ থেকে পাইকার, মধ্যস্বত্বভোগীসহ স্থানীয় কৃষকরা ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মিনি ট্রাক, ট্রাক্টর, অটোভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা, রিকশাভ্যানে করে পণ্য নিয়ে আসা শুরু করে প্রতিদিন বাজারে। সন্ধ্যা রাত থেকেই বাজারের ব্যস্ততা বাড়তে থাকে আবার সকালে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারের ব্যস্ততা কমে যায়। এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় সবধরনের শাকসবজি, মৌসুমি ও বারোমাসি ফলসহ নানা পণ্য খুচরা দামে কেনা যায়। তবে বাজারটিতে মূলত ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় হয় কুমিল্লা ও আশপাশের ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামসহ আশপাশের জেলার খুচরা বাজারগুলোর ক্রেতাদের। সড়ক ও জনপথ বিভাগের দখলি জায়গাজুড়েই মহাসড়কের পাশে যানবাহন থামিয়ে অসংখ্য ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন উল্টোপথে প্রবেশ করে মাল লোডিং আনলোডিং করে থাকে । এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিদিন যানজন লেগে থাকে। বিশেষ করে সকালের দিকে মহাসড়কের এই অংশটিতে সিএনজি অটোরিকশা, ইজিবাইক, রিকশা, অটোভ্যান, নসিমনসহ ছোট যানবাহনের অত্যধিক চাপ বেড়ে যায়। পাশাপাশি ক্রেতারা সড়ক পথে হাঁটাচলা করায়, যানবাহনের চালকদের দুর্ভোগ চরমে উঠে। গত ৬ এপ্রিল সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাদের নিজস্ব জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। তবে, অভিযানের পরপরই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট আবার উচ্ছেদকৃত জায়গায় দোকানপাট নির্মাণ করে। বাজারের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে জানতে চাইলে বাজারের ইজারাদার সফিকুর রহমান ভূইয়া বলেন, বাজারে ডাস্টবিন নির্মাণ করার কোনো জায়গা নেই। অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের বিষয়টি নিয়ে বলেন, ঘটনা সত্য না । এছাড়াও দখলকৃত জায়গায় ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা প্রশাসনিক কাজ, আমার কিছু করার নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হোসেন বলেন, যানজট নিরসনে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। পাশাপাশি বাজারের পরিত্যক্ত আবর্জনা মহাসড়কের পাশে নিচু এলাকায় ফেলতে উৎসাহিত করছি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন