কুমিল্লার মুরাদনগরের কড়ইবাড়ি গ্রামে ৩ জুলাই একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছেন সেনাবাহিনী সদস্যরা।
শুক্রবার (৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৩টায় ক্যাপ্টেন আদিল শাহরিয়ারের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি দল আকবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
আটককৃতরা হলেন মামলার এজাহারভুক্ত ১৮ নাম্বার আসামি নাজিমউদ্দীন বাবুল (৫৬) ও ১৯ নাম্বার আসামি মো. সবির আহমেদ (৪৮) ।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকাল ৯টায় কড়ইবাড়ি গ্রামে মোবাইল চুরি করেছে সন্দেহে স্থানীয়রা একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করে।
নিহত তিনজন হলেন কড়ইবাড়ি গ্রামের খলিলুর রহমানের স্ত্রী রোকসানা বেগম ওরফে রুবি (৫৩), তার ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) ও মেয়ে তাসপিয়া আক্তার ওরফে জোনাকি (২৯)। এছাড়া পরিবারের আরেক সদস্য রুমা আক্তার (২৮) গণপিটুনির শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়রা জানান, নিহত পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। পরিবারটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক–সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এর জের ধরেই এলাকাবাসী পিটিয়ে ও কুপিয়ে তাদের হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।
ঘটনার তদন্ত চলছে এবং সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
৪ জুলাই রাতে ৩৮ জনকে আসামি করে বাংগরা থানায় মামলা দায়ের করেন রুবির বড় মেয়ে রিক্তা আক্তার। নিহত তিনজনের লাশ শুক্রবার মধ্যরাতে পুলিশের সহায়তায় দাফন করা হয়।
এদিকে নিহত রুবির বড় মেয়ে রিক্তা আক্তার দৈনিক আমার দেশকে বলেন, আমি মামলা করেছি । কিন্তু পুলিশ আমার মামলা গ্রহণ করছে না। তারা টালবাহানা করছে। আমরা কি বিচার পাবো না।
এই বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজুর রহমান বলেন, এজাহার পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

