চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কালো পলিথিনে মোড়ানো এক নবজাত কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলার উত্তর সোনাপাহাড় এলাকার মীর হোসেনের ঘরের সিঁড়ির পাশ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিঁড়ির পাশে পড়ে থাকা একটি কালো পলিথিনের প্যাকেট দেখে মীর হোসেনের সন্দেহ হয়। তিনি ভাবেন পরিবার এখানে থাকে না। ঘরটি খালি থাকে, এই পলিথিনে কী রয়েছে। কাছে গিয়ে কান্নার শব্দ শুনে তিনি প্যাকেটটি খুলে দেখেন, ভেতরে কন্যাশিশু রয়েছে। পরে প্রতিবেশী আহম্মদ উল্ল্যাহর সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করে বারইয়ারহাটের সেফা ইনসান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মীর হোসেন বলেন, সকাল ১০টার দিকে বাড়ির সামনে একটি পলিথিনের প্যাকেট দেখতে পাই। কাছে গিয়ে কান্নার শব্দ শুনতে পাই। পরে খুলে দেখি একটি নবজাতক শিশু। তখন আশপাশের লোকজনকে জানাই এবং দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।
বারইয়ারহাট সেফা ইনসান হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এস এ ফারুক জানান, বেলা ১১টার দিকে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রথমে তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা খারাপ ছিল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর বর্তমানে তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ইউএনও সোমাইয়া আক্তার হাসপাতালে নবজাতকটিকে দেখে আসেন। তিনি হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ডা. এস এ ফারুকের সঙ্গে কথা বলেন এবং শিশুটির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
বুধবার সকালে সোমাইয়া আক্তার বলেন, মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে গিয়ে শিশুটিকে দেখে এসেছি। শুনেছি প্রথম দিকে তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা খারাপ ছিল। তবে হাসপাতালে ভর্তির পর সে ভালো আছে। বেলা ১১টায় উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভা ডেকেছি। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিশুটির পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও শিশু কল্যাণ বোর্ডের সদস্যসচিব সাবরিণা লীনা বলেন, শিশুটির বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমাদের কমিটিতে একজন চিকিৎসক রয়েছেন, তিনি শিশুটির স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলো তুলে ধরবেন। প্রয়োজন হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। আর শিশুটি সুস্থ থাকলে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দত্তক গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

