জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “এই দেশ শুধু সরকারি দলের নয়, এই দেশ ১৮ কোটি মানুষের। ৯০টি আসন নিয়ে সংসদে এসেছি আঙুল চুষার জন্য নয়।”
শুক্রবার চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে এসে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “বিগত সময়ে যারা দেশ পরিচালনা করেছে, তারা দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে এবং দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। তারা দেশের দুশমন। আমাদের লড়াই সব ধরনের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এবারের বন্যায় তুলনামূলকভাবে বাঁশখালী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাঁশখালীবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি গেঞ্জি পরে আপনাদের সামনে এসেছি। এর মানে হলো, আমি এ এলাকার মেহমান নই। আজ থেকে আমিও বাঁশখালীর একজন মানুষ। আপনারা রাজি আছেন? আমাকে নাগরিকত্ব দেবেন?”
এ সময় উপস্থিত জনতা সম্মতি জানালে তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ।”
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, “এবারের বন্যায় ২৩ জন মানুষ মারা গেছেন। আমরা প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা করবো এবং আগামী তিন দিনের মধ্যেই তা পৌঁছে দেওয়া হবে।”
এর আগে ডা. শফিকুর রহমান বাঁশখালীর বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকা ঘুরে দেখেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মাঝে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
শুধু ত্রাণ বিতরণে সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে যান। সেখানে প্রবীণ, নারী ও শিশুদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “দুর্যোগের সময় মানুষের পরিচয় একটাই—সে একজন বিপন্ন মানুষ। ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয় এখানে বিবেচ্য নয়। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব।”
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

