আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

লক্ষ্মীপুরের চার আসন

পুরুষ প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন নারী ভোটাররা

রাজীব হোসেন রাজু, লক্ষ্মীপুর

পুরুষ প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন নারী ভোটাররা

মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে বইছে নির্বাচনের উত্তপ্ত হাওয়া। একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলায় এবারের ভোটের অঙ্ক বদলে গেছে। বিএনপির একসময়ের সহযোগী দল জামায়াতে ইসলামী নিজেই ১০ দলীয় জোট নিয়ে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছে। অন্য দলগুলোও ভোটের মাঠে বেশ সরব।

তবে সবার দৃষ্টি এবার নারী ভোটারের দিকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নারী ভোটাররাই লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনের ফলাফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। পাঁচটি উপজেলা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর জেলায় রয়েছে চারটি সংসদীয় আসন। জেলায় মোট ভোটার ১৬ লাখ ৩৭ হাজার ৯৫৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার সাত লাখ ৯০ হাজার ৬৫৪ জন। চারটি আসনে মোট ২৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সবকটি আসনে বিএনপির একক প্রার্থী থাকলেও জামায়াত তিনটি ও এনসিপি একটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ)

রামগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৮১ হাজার ৩০১ জন। সাতজন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই হবে ত্রিমুখী। আসনটিতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি নিজ দল বিএলডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। পরে তাকে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এ আসনে তার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহবুব আলম ও জাকির হোসেন পাটোয়ারী।

এদিকে জামায়াতের প্রার্থী নাজমুল হাসান পাটোয়ারী দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শরিক দল এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলমকে আসনটি ছেড়ে দেন। অন্যদিকে এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জাকির হোসেন পাটোয়ারী। ফলে এই আসনটিতে লড়াই হবে ত্রিমুখী। প্রত্যেকেই জোরেশোরে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন। এই আসনে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) আলমগীর হোসাইন, গণঅধিকার পরিষদের কাউছার আলম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বিল্লাল হোসেন। তবে মাঠে তাদের তৎপরতা তেমন দেখা যাচ্ছে না।

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ)

এই আসন থেকে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার এখানে সাত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াইয়ে আছেন দুই ভূঁইয়া। তারা হলেন বিএনপির প্রার্থী তিনবারের এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও জামায়াতের প্রার্থী জেলা আমির এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া। উভয়েই প্রবীণ রাজনীতিবিদ। একসময়ের বিএনপির ঘাঁটি এই আসনে জামায়াত নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। এই আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলনের হেলাল উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাসার, নাগরিক ঐক্যের রেজাউল করিম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) ইব্রাহীম মিয়া ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ফরহাদ মিয়া।

লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর)

সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভা নিয়ে গঠিত জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আসন। এ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত। দুটি দলেরই ছাত্রসংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় দুই সভাপতি এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার ফলে প্রথম থেকেই এখানে চলছে ব্যাপক উত্তেজনা। এখানে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে দুই প্রার্থী প্রচার শুরু করলেও বাগ্‌যুদ্ধ চলছে অনেক আগে থেকেই। ইতোমধ্যে দুই প্রার্থীর সমর্থকের মাঝে কয়েকবার মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। এ অবস্থায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। এই আসনে দুই প্রার্থীই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নারী ভোটারদের। এছাড়া তরুণ ভোটাররাও এই আসনটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির একেএম মহিউদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইব্রাহীম, এলডিপির মো. সামছুদ্দিন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) সেলিম মাহমুদ।

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর)

মেঘনা উপকূলীয় এই আসনে ৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই চতুর্মুখী। আসনটিতে বিএনপির হয়ে লড়াই করছেন এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। অন্যদিকে জামায়াতের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা সেক্রেটারি এআর হাফিজ উল্লাহ এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ। আরো আছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী তানিয়া রব। এই চারজনের প্রত্যেকেই শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। প্রত্যেকে জোরদারভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে এই আসনে কে জয়ের মুকুট পরবেন, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এই আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল হুদা চৌধুরী (মোটরসাইকেল), মনজুর মোর্শেদ (ফুটবল), শরাফ উদ্দিন আজাদ (কাপ-পিরিচ), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মিলন কৃষ্ণ মণ্ডল (মই), গণঅধিকার পরিষদের রেদোয়ান উল্লাহ (ট্রাক)। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অনেকেই নিজেদের প্রচার না চালিয়ে ধানের শীষের পক্ষে প্রচার চালানোয় তাদের ‘ডামি প্রার্থী’ বলছেন ভোটাররা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন