রমজান মাস উপলক্ষে প্রায় একমাস ব্যাপী কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিন ৫ টি ট্রাকে স্বল্পমূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে টিসিবি পণ্য। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে এসব মালামাল নিচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষেরা। এসব গরীব মানুষদের প্রয়োজনে সরকারি ভর্তুকি দেওয়া পণ্যের ওজনে দেওয়া হচ্ছে কম৷ যেখানে প্রতি কেজিতে ১০০ গ্রাম, ২ কেজিতে ২০০ গ্রাম ও আধা কেজিতে কমছে ৫০ গ্রাম।
বৃহস্পতিবার দূপুর ১ টায় নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় ফারুক স্টোরের সত্ত্বাধিকারী পারভিন আক্তারের অধীনস্থ টিসিবি পণ্য বিতরণের ট্রাকে এমন চিত্র দেখা যায়। যেখানে ডিজিটাল স্কেলের সাহায্যে ওজন মাপা হলেও প্রতিটা পণ্যে দেওয়া হচ্ছে নির্দিষ্ট পরিমান কম।
রমজান উপলক্ষে টিসিবি মোট পাঁচ জাতীয় পণ্য দিয়ে আসছে, যার মধ্যে আছে চিনি ১ কেজি, মশুর ডাল ২ কেজি, বুট ১ কেজি, তেল ২ কেজি, ২ কেজি সয়াবিন তেলে ১০০ গ্রাম ও খেজুর ৫০০ গ্রাম। এখানে সকল গ্রাহকেরই প্রতিটি পণ্যেই একই চিত্র দেখা গেছে।
পণ্যের ওজন কম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পেলে সেখান থেকে তিন-চারজন গ্রাহকের মালামাল ওজন করে দেখা যায় প্রতিটা পণ্যের মাঝে নির্দিষ্ট পরিমান কম দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে টিসিবির ডিলার পারভিন আক্তার বলেন, আমরা ইচ্ছাকৃত কোন পণ্যে মাপ কম দেইনি৷ মাপের সময় হয়তো ভুলে কম হয়ে গেছে। আমি এই কাজে নিয়োজিত সকলকে বলে দিয়েছি আর কোন মাপে যেন ভুল না হয়।
কুমিল্লাতে প্রতিদিন ৫টা ট্রাকে করে এ টিসিবি পণ্য সেল দেওয়া হয়। যার মধ্যে প্রতিটি ট্রাকে থাকে ৪০০ জনের বরাদ্ধ। এতে মোট ২০০০ পরিবারকে প্রতিদিন এ সহায়তা দিয়ে আসছে সরকার। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন ই দেওয়া হয় এসব পণ্য।
জনপ্রতি সব মিলিয় পাচ্ছে ৬ কেজি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। এখানে প্রতিজনকে দেওয়া হচ্ছে ৬০০ গ্রাম কম। সে হিসেবে প্রতিটি গাড়িতে ৪০০ জনকে দেওয়া হচ্ছে ২৪০ কেজি। যার মাধ্যমে কমপক্ষে প্রতি গাড়িতে প্রায় চব্বিশ হাজার টাকা সমমূল্যের পণ্য কম দেওয়া হচ্ছে। এভাবে কুমিল্লায় ৫ টি ট্রাকসেলে লক্ষাধিক টাকার অনিয়ম হচ্ছে।
অনিয়মের খবর শুনে কুমিল্লা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ওজনের কারচুপি দেখতে পেয়ে ফারুক স্টোরের সত্ত্বাধিকারীকে নামমাত্র দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কুমিল্লা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাউছার মিয়া বলেন, এসব টিসিবি পণ্য সরকারের পক্ষ থেকে গরীব মানুষদের দেওয়া হয়। কিন্ত কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী এখানে ওজনে কম দিয়ে নিজেদের পকেট ভারি করে। আমরা এমন একটি তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি এবং দেখতে পাই ফারুক স্টোর কর্তৃপক্ষ প্রতিটি পণ্যের ওজনে কম দিচ্ছে। আমরা তাদেরকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করি এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ যেন না করে সে বিষয়ে হুঁশিয়ারি করে দেই।
কুমিল্লা টিসিবির উপ পরিচালক মামুনুর রশীদ গাজী বলেন, আমাদের ৫টি ট্রাক প্রতিদিন ৪০০ করে ২০০০ মানুষকে পণ্য দিয়ে থাকে। অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে এসব পণ্য সরবরাহ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে যদি কোন স্বজনপ্রীতি কিংবা দুর্নীতির অভিযোগ থাকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
টিসিবি পণ্য নিতে আসা রোকসানা আক্তার বলেন, এখানে আসছি প্রায় ১ ঘণ্টা হবে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে পণ্য নেই কিছু টাকা কমে পাওয়ার জন্য। অথচ তারা এখানে আমাদেরকে ওজনে কম দেয়। পরিচিত মানুষকে আগে দিয়ে দেয়। লাইনে দাঁড়ানোর কোন নির্দিষ্ট নিয়ম মানে না, এজন্য আরো ভোগান্তিতে পড়ি। একজন বার বার নেয়, আরেকজন পায় না। এসব বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
নগরীর বাগিচাগাও এলাকার গৃহবধূ তাছলিমা আক্তার দৈনিক আমার দেশকে বলেন, তারা চেহারা দেখে দেখে মালামাল দেয় । আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি কিন্তু ডিলারের লোকজন লাইনের বাইরের লোক ডেকে এনে মালামাল দিয়ে দিচ্ছে। আমরা বাজার থেকে কিনতে পারি না বলেই তো লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখানে অনিয়ম দুর্নীতি হবে কেন এগুলো কেউ দেখছে কেন?
রেইসকোর্স এলাকার ব্যবসায়ী মো. হানিফ অভিযোগ করে বলেন, যারা খুব কষ্টে দিনযাপন করছে তারাই কিন্তু পৃথিবীর মাল সংগ্রহ করছে কিন্তু তাদের সাথে প্রতারণা করছে টিসিবির ডিলাররা । সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে । এখানের লাইনে যারা আছেন তারা সবাই নিম্ন শ্রেণীর মানুষ তারা এগুলো ম্যাপে দেখছে না কিন্তু কয়েকজনের মালামাল আমরা মেপে দেখলাম প্রতি কেজিতে ১০০ গ্রাম এবং দুই কেজির ডালে ২০০ গ্রাম কম দিচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

