চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যার পর ১১ টুকরো লাশ গুমের চেষ্টা করেন মো. সুমন (৩৫)। ঘটনার পরদিনই তিনি পলাতক ছিলেন। চারদিন পর গতকাল রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৭, র্যাব-৯ এবং র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ইউনিট।
চট্টগ্রাম র্যাব-৭ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে র্যাবে কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কাজ করার পর ভিসা জটিলতায় সুমন দেশে ফিরে চট্টগ্রামে পিকআপ চালাতেন। দেশে ফেরার পর থেকেই দাম্পত্য কলহ চলছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জানায়, ৯ জুলাই রাতে অজ্ঞাত ৬-৭ জন যুবক বাসায় আসাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুমন দুটি ছুরি দিয়ে স্ত্রীর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে হত্যা করে। পরে লাশ গুম করতে ১১ টুকরো করে কমোডে পানির ফ্ল্যাশের সঙ্গে ধুয়ে ফেলার চেষ্টা চালায়।
ফ্ল্যাটের সিকিউরিটি গার্ড মশিউর রহমান জানান, রাতে ওই ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ ও অস্বাভাবিক নড়াচড়ার শব্দ আসছিল। পানির ফ্ল্যাশেরও শব্দ চলছিল দীর্ঘ সময় ধরে। সন্দেহ হলে তিনি ১০ তলায় গিয়ে সুমনের ফ্ল্যাটে নক করেন। অনেকক্ষণ পর দরজা খুললেও সুমন এলোমেলো কথা বলেন এবং ভেতরে ঢুকতে না দেন।
গার্ড জোর করে ভেতরে ঢুকে রুমের বিভিন্ন জায়গায় রক্তের দাগ ও বাথরুমে মানুষের মাংস দেখতে পান। তিনি বাসার বাইরে থেকে দরজা তালাবদ্ধ করে নিচে নেমে স্থানীয়দের সহায়তা চাইতে যান। এ সুযোগে সুমন জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঘর থেকে নারীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে। খাটের নিচে পাওয়া যায় পা।
নিহত নারীর বড় ভাই মো. আনোয়ার হোসেন রুবেল বায়েজিদ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয় স্বামী সুমনকে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

