চট্টগ্রামর সীতাকুণ্ড উপজেলায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে ভুক্তভোগী, সাক্ষী ও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সোমবার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
সাবেক পুলিশ সদস্য মোশাররফ আমার দেশকে বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে, মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সজীব এবং অভিযুক্ত এএসআই হারুন (হারুন-২), কনস্টেবল মেহেদী ও এসআই পরিমলকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে ঘটনাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
মোশাররফ আরো বলেন, তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সুপার তাদের আশ্বস্ত করেছেন।
এর আগে, মোশাররফ অভিযোগ করেন, সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার করেন। বিষয়টি ওসি মাহিনুল ইসলামকে একাধিকবার জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা দায়েরের পাশাপাশি পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন।
মামলার অন্যতম সাক্ষী সজীব জবানবন্দিতে বলেছেন, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোশাররফের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। পরে তিনি আদালতে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করলে মামলায় নাটকীয় মোড় নেয় এবং আদালত মোশাররফকে জামিন প্রদান করেন।
সীতাকুণ্ড থানার এসআই হারুন (হারুন-২) বলেন, মোশাররফ তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এবং ওই মামলার জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি সম্পন্ন হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
অ্যাডভোকেট আশরাফ বলেন, মোশাররফ বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানার দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি জেলা জজের নেতৃত্বে জুডিশিয়াল ইনকোয়ারির মাধ্যমে তদন্ত শেষ হয়েছে এবং মামলাটি বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে।
পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান বলেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

