মহাসড়কের ৩৪ কিলোমিটারজুড়েই যানজট

উপজেলা প্রতিনিধি, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

মহাসড়কের ৩৪ কিলোমিটারজুড়েই যানজট

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর-সরাইল-আশুগঞ্জ অংশে ৩৪ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইল বিশ্বরোড (কুট্টাপাড়া মোড়) হয়ে হবিগঞ্জের মাধবপুর পর্যন্ত এ যানজট শুরু হয় গত রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা, চালক ও হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফোরলেন নির্মাণকাজের কারণে সড়ক সরু হয়ে গেছে। পাশাপাশি আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোড মোড় এলাকায় তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এর সঙ্গে দুটি মোড়ের অকার্যকর ব্যবস্থাপনাও যুক্ত হয়ে ভয়াবহ যানজটের জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ ছয় বছর ধরে চলছে। এক পাশের কাজ শেষ হলেও সম্পূর্ণরূপে চালু হয়নি। ফলে সরু একটি পাশ দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচল করছে।

এদিকে আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও বিশ্বরোড মোড়ে তিন ফুট গভীর অসংখ্য গর্তে ধীরগতিতে চলছে পণ্যবাহী গাড়ি। কখনও সেগুলো গর্তে আটকে গিয়ে বিকল হয়ে পড়ছে। ফলে যানজট বাড়ছে। এসব জায়গায় যান চলাচলের গতি নামিয়ে আনতে হচ্ছে ঘণ্টায় ২ থেকে ৫ কিলোমিটারে।

অন্যদিকে আশুগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী লেনে ভৈরব সেতু পর্যন্তও যানজট ছড়িয়ে পড়ে। সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অসংখ্য বাস, ট্রাক ও প্রাইভেট কার। অনেক যাত্রী রাত থেকে সকাল পর্যন্ত যানবাহনের মধ্যেই আটকে ছিলেন।

সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি মামুনুর রহমান আমার দেশকে বলেন, আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোড মোড়ের চারপাশে তিন ফুটের বেশি গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে গাড়ি এসে ৭০ কিলোমিটার গতি থেকে কমে ৫ কিলোমিটারে নামতে বাধ্য হচ্ছে। একটি ট্রাককে একটি মোড় অতিক্রমে লাগছে ২০ মিনিট পর্যন্ত। ফলে যানজট অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও আমরা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

যানজটের বিষয়ে সরাইলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন আমার দেশকে বলেন, যান যানজটে জনগণের ও বাস যাত্রীগণের অনেক অসুবিধা হচ্ছে এ বিষয়ে আমরা ডিসি মহোদয়সহ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি, আবহাওয়া বিপর্যয়ের কারণে রাস্তায় কিছু গর্তের সৃষ্টি হয়েছে পরিবেশ অনুকূলে আসলে গর্তগুলো আমরা স্থানীয়ভাবে ভরাট করে রুলার দিয়ে মেরামতের উদ্যোগ নিব। কিছুদিন আগে ঈদের সময় গর্তগুলো আমরা স্থানীয়ভাবে ভরাট করে দিয়েছিলাম, বৃষ্টির কারণে আবার গড়তে সৃষ্টি হলে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

আশুগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাফে মোহাম্মদ ছড়া আমার দেশকে বলেন, রাস্তাটি ভারতীয় কোম্পানির ঠিকাদার কাজ করছিল ৫ আগস্টের পর তারা কাজ ফেলে চলে যায়, এই অবস্থায় দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রয়েছে, সাথে অতিরিক্ত বৃষ্টি যোগ হয়েছে এ অবস্থায় আশুগঞ্জের গোল চত্বর রেলগেট এলাকায় অনেকগুলো বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়, এই গর্তে গাড়ি আটকে গেলে যানজটের বৃষ্টি, এতে যাত্রী সাধারণের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, এই বিষয়টি ভারতীয় কোম্পানির সাথে আমরা কথা বলেছি কাজপুরের বিষয়ে, জেলা প্রশাসক মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছেন রাস্তার কাজ শুরুর বিষয়ে কথা বলেছেন। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি আবার রাস্তার কাজ পুরোদমে শুরু হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন