কুকি-চিনের ২০ হাজার পোশাক ধ্বংস করল পুলিশ

চট্টগ্রাম ব্যুরো

কুকি-চিনের ২০ হাজার পোশাক ধ্বংস করল পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার একটি পোশাক কারখানা থেকে জব্দ করা পার্বত্য সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সদস্যদের জন্য তৈরি করা ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক বুধবার পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের মনছুরাবাদ পুলিশ লাইনসে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আদালতের নির্দেশে এই পোশাকগুলো পোড়ানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশিদ।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের ১৭ মে রাত দুইটা থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশ বায়েজিদ থানাধীন মোজাফ্ফরনগর ও নেয়ারহাট এলাকায় 'রিংভো অ্যাপারেলস' নামের একটি কারখানার গুদাম থেকে এই পোশাকগুলো জব্দ করে। মোট ৫৮০ বস্তায় মজুত রাখা পোশাকগুলোর মধ্যে মোজাফ্ফরনগরের গুদাম থেকে ৩২০ বস্তা এবং নেয়ারহাটের কারখানা থেকে ২৬০ বস্তা উদ্ধার করা হয়।

মামলার এজাহারে পুলিশ জানায়, গত মার্চ মাসে মংহলাসিন মারমা এবং কেএনএফের সদস্যদের কাছ থেকে দুই কোটি টাকার বিনিময়ে এই পোশাক তৈরির ক্রয়াদেশ নেওয়া হয়েছিল।

অভিযানে কারখানার মালিক সাহেদুল ইসলাম (২৫) এবং পোশাক তৈরির ক্রয়াদেশ সংগ্রহকারী গোলাম আজম (৪১) ও নিয়াজ হায়দার (৩৯) নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৮ মে নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই ইকবাল হোসেন চারজনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বায়েজিদ বোস্তামি থানায় মামলা করেন।

কে এই কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট

বান্দরবানের রুমা উপজেলাকেন্দ্রিক এই সশস্ত্র সংগঠনটির অস্তিত্ব প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২২ সালের শুরুর দিকে। বম, পাংখোয়া, লুসাই, খিয়াং, খুমি ও ম্রো জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে সংগঠনটি গড়ে তোলার কথা বলা হলেও মূলত বম জনগোষ্ঠীর একটি অংশ এর সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হয়। এই কারণে পাহাড়ে সংগঠনটি 'বম পার্টি' নামেও পরিচিত।

রিংভো অ্যাপারেলসের প্রডাকশন ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামান অবশ্য দাবি করেছেন, পোশাকগুলো কাদের জন্য তৈরি হচ্ছিল তা তারা জানতেন না। 'আমরা সাব-কন্ট্রাক্টের কাজ করি, ছোট একটি কারখানা আমাদের- বলেন তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন