চট্টগ্রামে পরাজিত জামায়াত প্রার্থীদের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন বিএনপির দুই বিজয়ী প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিজয়ী আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ (মিরসরাই) আসনে বিজয়ী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান।
শুক্রবার দুপুরে তারা তাদের প্রধান প্রতিন্দ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীদের বাড়িতে যান। এ সময় দুই দলের নেতাকর্মীরা তাদের ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। শুধু তাই নয়, একে অপরের বাড়িতে আপ্যায়নও গ্রহণ করেন তারা।
রাজনৈতিক সচেতন মহল বলছে, এমন প্রতিযোগিতামূলক, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ জাতীয় নির্বাচনের পর বিদ্বেষ-অভিযোগ না ছড়িয়ে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ, সম্প্রীতির পরিবেশ মানুষকে আশান্বিত করেছে। তারা হানাহানি ও গীবত নয়, জনগণের জন্য আগামীর বাংলাদেশ একসাথে মিলেমিশে গড়বেন।
জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-পাহাড়তলী-আকবরশাহ আংশিক) আসনে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী তার পার্শ্ববর্তী এলাকা ফৌজদারহাটের আব্দুল্লাহঘাটায় অবস্থিত জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দীক চৌধুরীর বাড়িতে যান।
এ সময় আনোয়ার ছিদ্দীক চৌধুরী ও আসলাম চৌধুরী একে অপরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে তারা সৌহার্দ্যপূণ্য পরিবেশে বেশ কিছু সময় ধরে ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী সময়ে কাটানো সময়গুলোর স্মৃতিচারণ করেন। পরে আনোয়ার ছিদ্দীক চৌধুরী আসলাম চৌধুরীকে হাত ধরে বাড়িতে নিয়ে যান এবং মিষ্টিমুখ করান।
জামায়াত প্রার্থী বলেন, ‘আমাদের জন্য জয়-পরাজয় বড় কোনো ব্যাপার না। এটা নির্বাচনের দিন চলে গেছে। আমরা দুজন বড় ও ছোট ভাই। একসঙ্গে সীতাকুণ্ডের মানুষের জন্য কাজ করব। কোনো বিভেদ চাই না, সীতাকুণ্ডকে গড়তে চাই। মানুষের জন্য যেকোনো কাজে আমি আসলাম চৌধুরীকে সহযোগিতা করব। এ সময় বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীও সহমত পোষণ করেন।
এদিকে চট্টগ্রাম-২ (মিরসরাই) আসনে জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমানের বাড়িতে গেছেন বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান। দুপুরে তিনি সাইফুর রহমানের বাড়িতে যান। এ সময় তারা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান।
অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই, তারা ‘হ্যাঁ’কে জয়যুক্ত করেছেন। বিএনপি প্রার্থীকে আমি অভিনন্দন জানাই। আমরা একসঙ্গে আগামীর সমৃদ্ধ মিরসরাই গড়ব।
চট্টগ্রামের এ দুই বিজয়ী সাংসদের এমন উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন তারা। অনেকেই চার প্রার্থীর মধ্যে বিজয়ী প্রার্থীর উদ্যোগে পরাজিত প্রার্থীর বাড়িতে কুশল বিনিময়কে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছে। কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশে বহুদিন এই পরিবেশ হারিয়ে গেছিল। আবার গণতন্ত্রের সাথে সাথে সেই পরিবেশ ফিরে এলো।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

