দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তীব্র সমালোচনা করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এটিকে একটি 'অকার্যকর' ও 'দুর্নীতিগ্রস্ত' প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, দুদকের ভেতরেই দুর্নীতি সবচেয়ে বেশি। যে সময় যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, দুদক সে সরকারকে তোষামোদি করে। দুদক একদিকে ছোটখাটো বিষয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে, অন্যদিকে বড় বড় ব্যবসায়ীদের থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ক্লিন সার্টিফিকেট’ দিয়ে দেয়। রাষ্ট্রীয় সংস্থা হিসেবে দুদকের এই চরিত্র বদলাতে হবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে চাটখিল উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার বিতরণ এবং ফলদ ও বনজ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ব্যারিস্টার খোকন বলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অনেক ভালো মানুষের চাকরি খেয়ে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য যে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা আশা করি সার্চ কমিটি এবার এমন সৎ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেবে, যারা কোনো স্বজনপ্রীতি, দলবাজি বা রাজনৈতিক চাটুকারিতা না করে শুধু দুর্নীতির বিরুদ্ধে মেরুদণ্ড সোজা করে কাজ করবেন।"
অর্থনৈতিক সংকটের কথা উল্লেখ করে এই আইনজীবী নেতা বলেন, ব্যাংকের ওপর আস্থা হারিয়ে মানুষ এখন ঘরে টাকা জমিয়ে রাখছে, যার ফলে পুনঃবিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে এবং দেশে বেকারত্ব বাড়ছে।
এছাড়া রাস্তাঘাট ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, "অনলাইনে একই ঠিকাদারি ফার্ম বারবার কাজ পাচ্ছে। কাজের মান অত্যন্ত খারাপ হওয়া সত্ত্বেও অনেক জায়গায় সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়াররা কাজ শেষ হওয়ার আগেই মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে বিল পাস করে দিচ্ছেন। যথাযথ তদারকি না থাকায় এক বছরের মাথায় রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে।এই অবস্থায় তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকায় কোনো প্রকার দুর্নীতি বা উন্নয়ন প্রকল্পে ‘পুকুর চুরি’ বরদাশত করা হবে না।
পাশাপাশি প্রবাসী পরিবারসহ স্থানীয় জনগণের জানমালের নিরাপত্তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা যে বিঘ্নিত করবে, সে যে দলেরই হোক না কেন, তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের অফিসে বসে না থেকে সরাসরি মাঠে গিয়ে দৃশ্যমানভাবে কৃষকদের সেবা ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
'কৃষিই সমৃদ্ধি'—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার '৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ' কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় চাটখিলের কৃষকদের মাঝে আমন ধান, মরিচ, সবজি বীজ ও সার বিতরণ করা হয়।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি পরিবারকে অন্তত ১০টি করে চারা গাছ লাগানোর অনুরোধ জানিয়ে ব্যারিস্টার খোকন বলেন, কারো চারা কেনার টাকা না থাকলে তিনি নিজ তহবিল থেকে সেই অর্থ যোগান দেবেন।
চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জুনাঈদ আলমের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মুন্নাফ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট আবু হানিফ, পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র মোস্তফা কামাল, সদস্য সচিব আহসানুল হক মাসুদ, উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. লিটন এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ার প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

