নিকলীতে বিএনপি-আ.লীগ মিলে লুটছে বালু, ভাঙছে নদী

নিকলীতে বিএনপি-আ.লীগ মিলে লুটছে বালু, ভাঙছে নদী
নিকলীতে বিএনপি-আ.লীগ মিলে লুটছে বালু, ভাঙছে নদী। ছবি: আমার দেশ

আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট মিলেমিশে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ব্যবসাকে জমজমাট করে তুলেছে । এতে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন ।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের ঘোড়াদিঘা, বরুলিয়া, ধনু নদী ও ঘোড়াউত্রা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় ড্রেজার দিয়ে দেদারসে চলছে বালু উত্তোলন। এভাবে বালু উত্তোলনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, নদীর তীরবর্তী গ্রাম । রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এ এলাকায় একাধিক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিকলী উপজেলার বিভিন্ন নদীতে বালু উত্তোলনে আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট মিলেমিশে ফ্যাসিস্ট কায়দায় রাতের আঁধারে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর পর্যন্ত চলে এ বালু উত্তোলন কার্যক্রম। উত্তোলন করা প্রতি ঘনফুট বালু তিন টাকা দরে বিক্রি করা হয়। প্রতিরাতে নদীগুলোতে একাধিক ড্রেজারের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ঘনফুটের বেশি বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ উত্তোলন করা বালু দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে হাওরের ফসলি জমি, ডোবা, গর্ত জমি, পুকুর ভরাট করা হচ্ছে ।

বিজ্ঞাপন

নিকলী উপজেলায় সরকারি কোনো বালু মহাল না থাকলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে, অবৈধ উপায়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে তাদের রমরমা বালুর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে । রাতের আঁধারে ধনু নদী, বোয়ালিয়া নদী, পাগলার খাল ও ঘোড়াউত্রা নদীর সফরি কান্দা থেকে ফ্যাসিস্ট কায়দায়, রাতের ভোটের মতো করে বালু লুটে নিচ্ছে। গভীর রাতে ড্রেজার চালিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

অপরিকল্পিতভাবে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে ঘোড়াউত্রা ও ধনু নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করায়, এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে । সিংপুর ইউনিয়নের উত্তর হাটি, পাতার কান্দি, বরহাটি, মলাহাটি, ইসলামপুর ও বাজারহাটি এলাকার অনেকের ঘরবাড়ি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীতীর রক্ষা বাঁধও এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা যায় । নিকলীতে নদী থেকে বালু উত্তোলন ঘিরে একাধিক সংঘাত ও প্রাণহানির মতন ঘটনা রয়েছে। ঘটনায় নিকলীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে গত ১৯ জুলাই কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ঘোড়াউত্রা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কাছুম আলী নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছে। তিনি ছাতিরচর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি। এ ঘটনায় আরো দুইজন আহত হয়েছিল। নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে বালু উত্তোলনের সময় ড্রেজার ও শ্রমিকদের আটক করলেও, তাদের পরিচয় মেলে দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হিসেবে। বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা নিজেদের আড়ালে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভাড়ায় ড্রেজার ও শ্রমিক এনে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। ফলে অভিযানে কেবল ভাড়াটে শ্রমিক ও ড্রেজার জব্দ হলেও, নেপথ্যের মূল হোতা ও সিন্ডিকেটের সদস্যরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে ড্রেজারের শ্রমিকদের জরিমানা করা হলেও, প্রভাবশালী বালু উত্তোলন সিন্ডিকেটই সেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে।

নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে নিকলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. কফিল উদ্দিন বলেন, বিএনপির ত্যাগি নেতাকর্মীরা অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত না। কিছু নব্য বিএনপি, কিছু স্থানীয় প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এরা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে বলে জানান।

এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. বদরুল মোমেন মিঠু বলেন, অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত তারা বিএনপির কর্মী হলেও তাদেরকে স্বীকৃতি দিব না, সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিব। প্রশাসনের নাকের ডগায় মাডারের মতন ঘটনা ঘটার পরেও যদি নিকলীতে সামগ্রিকভাবে ড্রেজার বন্ধ না হয়, এটা খুবই দুঃখজন।

এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা সহকারী কমিশনার শহীদ উল্লাহ বলেন, প্রশাসনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। নিকলী সরকারি কোনো বালুমহাল নেই। নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। বালু উত্তোলন বন্ধে নিকলী উপজেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে বলে তিনি জানান।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেলে অভিযান পরিচালনা করি, কিছুদিন ধরে অভিযোগ আসতেছে না। মনে হয় বন্ধ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা অভিযান পরিচালনা করব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন