আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সন্দ্বীপে ব্যাকআপহীন সিসিটিভি: ভোট লুটের শঙ্কা

উপজেলা প্রতিনিধি, সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম)

সন্দ্বীপে ব্যাকআপহীন সিসিটিভি: ভোট লুটের শঙ্কা

সন্দ্বীপে নির্বাচনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এসব ক্যামেরায় কোনো ধরনের পাওয়ার ব্যাকআপ বা অফলাইন স্টোরেজ না থাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলেই সেগুলো সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়বে—এমন তথ্য সামনে আসায় ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা’র কথা বললেও বাস্তবে এই ব্যবস্থা তাসের ঘরের মতোই ভঙ্গুর। বিদ্যুৎ চলে গেলে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো কার্যত ‘প্লাস্টিকের খেলনায়’ পরিণত হবে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মাঠপর্যায়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলে বিকল্প কোনো ব্যাকআপ পরিকল্পনার অস্তিত্ব নেই।

বিজ্ঞাপন

নিরাপত্তা বিশ্লেষক রিমন আল ফাহাদ বিষয়টিকে প্রশাসনের “চরম গাফিলতি” আখ্যা দিয়ে বলেন, “পাওয়ার ব্যাকআপহীন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো শুধু লোক দেখানো আয়োজন নয়, এটি এক ধরনের ডিজিটাল প্রতারণা। সন্দ্বীপের মতো বিদ্যুৎ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্যাকআপ ছাড়া ক্যামেরা বসানো মানে অপরাধীদের জন্য নিরাপদ পথ তৈরি করে দেওয়া। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে এসব ক্যামেরা অন্ধ পাহারাদারে পরিণত হবে।”

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমা বলেন, “নির্বাচনের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরা সচল থাকবে—এ বিষয়ে আমরা শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছি।”

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্র মনিটরিং টিমের একাধিক সদস্য জানান, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তারা বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে এক সেকেন্ডের মধ্যেই ক্যামেরাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। এসব ক্যামেরায় কোনো ইউপিএস বা অফলাইন স্টোরেজ নেই, ফলে লাইভ সংযোগ বন্ধ হলে কোনো ফুটেজ সংরক্ষিত থাকবে না। কেন এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এ প্রশ্নে তারা জানান, “পর্যাপ্ত বাজেট নেই।”

পিডিবির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক আকবর হোসেন দাবি করেন, নির্বাচনের দিন বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশেষ ব্যাকআপ গ্রিড ও ইমার্জেন্সি টিম প্রস্তুত থাকবে। তবে সাবমেরিন ক্যাবল বিচ্ছিন্ন হলে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে কত সময় লাগবে—এ প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নূর বলেন, “আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি।” তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সিসিটিভি অকেজো হলে বিকল্প কী—সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, সিসিটিভির এই ব্যাকআপহীন অবস্থার কথা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সন্দ্বীপের কোনো প্রার্থীকেই জানানো হয়নি। বিষয়টি জানার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক প্রার্থী। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আলাউদ্দিন সিকদার, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অধ্যাপক আমজাদ হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহায়েদুল মাওলা একে মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে জানান, কোনো কেন্দ্রে ক্যামেরা বন্ধ অবস্থায় ফলাফল নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে তারা সেই কেন্দ্রসহ সামগ্রিক নির্বাচনের ফলাফল বর্জন করবেন।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা সিসিটিভির এই সীমাবদ্ধতাকে কোনো ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন না বলে জানিয়েছেন।

সন্দ্বীপে ভোটের দিন বিদ্যুৎ ও সিসিটিভি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর থাকে, সেদিকেই এখন নজর সবার।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন