ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতাকে কোপাল মাদক কারবারিরা

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা

ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতাকে কোপাল মাদক কারবারিরা
মাদক কারবারিদের হামলায় আহত যুবদল নেতা ও তার ভাতিজা। ছবি: আমার দেশ

ইয়াবা সেবনে বাধা প্রদান করায় যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে মাদক কারবারীরা । ১০ এপ্রিল শুক্রবার জুমার নামাজের পর কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চাঁপাপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে । কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক জহির উদ্দিন বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারত সীমান্ত ঘেঁষা জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চাপাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারীরা ব্যবসা করে আসছে । বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রতিটি এলাকায় মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা হয় । এমন একটি কমিটি গঠন করায় মাদক কারবারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় । যার কারণেই তারা গতকাল দুজন সাধারণ মানুষকে কুপিয়ে আহত করেছে ।

বিজ্ঞাপন

মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় আহত রুবেল বলেন, “আমাদের গ্রামে একটি মাদকবিরোধী কমিটি রয়েছে। আমি সেই কমিটিকে জানিয়েছিলাম যে, আমার এলাকায় কিছু যুবক মাঠে বসে নিয়মিত মাদক সেবন করে। বিষয়টি জানানোর পর থেকেই আমি মাদক কারবারিদের কাছে শত্রুতে পরিণত হই। আমাদের এলাকায় ধর্মপুর থেকে আসা এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন করে। আজ জুম্মার নামাজ শেষে বের হওয়ার পর সে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং হুমকি দেয়। সে বলে, ‘আমরা এখন মাঠে বসে গাজা, মদ, ইয়াবা খাবো। তোর কোন বাপ থাকলে বলিস বাধা দিতে।’ এরপর আমি রুমান ভাইসহ আরও কয়েকজনকে ফোন করে বিষয়টি জানাই। কিছুক্ষণ পর মাদকসেবীরা আমার ওপর হামলা চালায়। আমি প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে তারা সুইচ গিয়ার (ধারালো অস্ত্র) বের করে আমাকে আঘাত করতে যায়। আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে আমার হাত ও পেটে গুরুতর জখম হয়।”

মাদক কারবারিদের হামলায় আহত কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহির উদ্দীন বলেন, ‘জুম্মার নামাজের পর আমি বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। এসময় শুনতে পাই, আমার ভাতিজাকে মাদক কারবারিরা মারধর করছে। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ধমক দিলে তারা প্রথমে সরে যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তারা আবার অস্ত্র নিয়ে ফিরে আসে। আমি আত্মরক্ষার জন্য বাঁশ নিয়ে দাঁড়ালে তারা আবার চলে যায়। যেহেতু তাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা ছিল না, তাই আমিও বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে ফিরে আসি। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তারা দা, ছুরি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পুনরায় এসে আমার ওপর হামলা চালায়। তারা আমার হাত-পায়ে কোপ দেয় এবং মারধর করে। এতে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। পরে স্থানীয়রা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমার এক হাতেই ৩২টি সেলাই দিতে হয়েছে এবং পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে ।’

তিনি আরো বলেন, ‘হামলাকারীদের মধ্যে ছিল দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সালাহউদ্দীন, আনিসের ভাগিনা জিহাদ, শাহজাহানের ছেলে এবং আরও কয়েকজন। এদের মধ্যে সালাহউদ্দীনই মূল নেতা এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা সবাই মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত।’

এলাকার ভুক্তভোগীরা জানান, ‘তারা স্থানীয় সমাজ ও জনকল্যাণমূলক কাজে সক্রিয় ছিলেন এবং মাদকবিরোধী কমিটি গঠনের উদ্যোগও নিয়েছিলেন। এ কারণেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, দলের নেতৃবৃন্দ এবং কুমিল্লার প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, এখনো পর্যন্ত আমি অভিযোগ পাইনি।‌ অভিযোগ পেলে মাদক কারবারই ও মাদক সেবনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব ।‌

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...