ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনের ভোট শেষ হওয়ার পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন। সংসদের ৩০০ আসনে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হয় সংরক্ষিত নারী এমপিদের ভাগ্য। বর্তমানে সংসদে দলগুলোর অবস্থানের আনুপাতিক হারে এই ৫০টি আসন বণ্টন করা হবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ২৯৭টির। আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফল বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।
আর প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। সে হিসেবে সংসদের ২৯৭টি আসনের বিপরীতেই সংএক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন হচ্ছে।
২৯৭টি আসনের দলীয় ও স্বতন্ত্র এমপিরা শপথ নেওয়ার পর থেকে কোন দল কতগুলো আসন পাবে, সেটি নিয়ে নানা হিসাব নিকাশ চলে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। দলটি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পায়।
এর বাইরে বিএনপি জোটের শরিক দল গণঅধিকার পরিষদ একটি, গণসংহতি আন্দোলন একটি এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি একটি আসনে জয় পায়।
সেই হিসেবে বিএনপি জোট এই ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে। আইন অনুযায়ী আসন সংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টন হবে এবারও।
প্রতি ছয়টি আসনের জন্য একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত থাকায় অন্তত ৩৫টি সংরক্ষিত আসন পাবে বিএনপি জোট। বাকি তিনটি আসনের ভোট ও ফলাফল চূড়ান্ত হলে বাড়তি আরো একটি আসন পেতে পারে।
এর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীও জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। দলটি এককভাবে ৬৮টি আসন, এনসিপি ছয়টি, বাংলাদেশ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস পেয়েছে একটি আসন।
সেই হিসেবে জামায়াতে ইসলামী জোট ৭৭টি আসনের বিপরীতে ১২ থেকে ১৩টি আসন পেতে পারে বলে জানাচ্ছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।
এই নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে জয় পেয়েছে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একত্রে জোটবদ্ধ হলে তারা অন্তত একটি আসন পেতে পারেন।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের সাতই জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় শরীক জোট এককভাবে ২২৩টি আসনে জয় পেয়েছিল।
এর বাইরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৬২টি আসনে জয় পেয়েছিল। ভোটের পর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছিল সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী নির্বাচনে।
পরে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছিল ৪৮টিতে। আর জাতীয় পার্টি ১১টি সাধারণ আসনে বিজয়ী হওয়ায় সংরক্ষিত আসনে তারা দুইটি আসনে জয় পেয়েছিল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

