পটিয়ায় পাউবোর ১৩৩ কোটি টাকার প্রকল্পে নয়ছয়

রবিউল হোসেন, পটিয়া (চট্টগ্রাম)

পটিয়ায় পাউবোর ১৩৩ কোটি টাকার প্রকল্পে নয়ছয়

চট্টগ্রামের পটিয়ায় শ্রীমাই খালের ওপর বাস্তবায়নাধীন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ১৩৩ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। তিন বছর ধরে চলমান প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার আগেই খালের বাঁধে বসানো কংক্রিট ব্লক সরে বাঁধে ধস তৈরি হচ্ছে। এতে করে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেল, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে শ্রীমাই খালের দুপাশে বসানো কংক্রিটের ব্লকগুলো সরে পড়ছে। বাঁধের ব্লক সরে যাওয়ায় স্থানীয়রা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দুষছেন। প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে আর মাত্র দুই মাস। এর মধ্যে পাঁচটি প্যাকেজের মধ্যে কোনোটিই ৭০ শতাংশের ওপরে শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আগামী বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে কাজ শেষ করতে না পারলে প্রকল্পের সুফল নিয়েও হতাশা বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (চট্টগ্রাম পওর বিভাগ-১) অধীনে চট্টগ্রামের পটিয়া শ্রীমাই খালের ওপর মাল্টিপারপাস হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্রাম নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়। প্রকল্পে পাঁচটি প্যাকেজের মধ্যে নদীতীর সংরক্ষণ চারটি, আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদিসহ হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম নির্মাণ একটি, বনায়ন একটি রয়েছে। তীর সংরক্ষণের আওতায় সাড়ে চার কিলোমিটার খালের দুপাশে বিভিন্ন আকারের ৬ লাখ ৪০ হাজার ২৬৫ ব্লক বসানোর কথা।

শ্রীমাল খালের পাড়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের কংক্রিট ব্লকগুলো খালের ভাঙন প্রতিরোধের জন্য বসানোর কথা বলা হলেও ভাঙনকবলিত স্থানে বসানো হয়নি। যেখানে প্রয়োজন সেখানে না বসিয়ে বসানো হয়েছে অপ্রয়োজনীয় জায়গায়, এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে বর্ষার পানির কারণে ভাঙনের সৃষ্টি হয়, সেসব স্থানে যথাযথভাবে ব্লক বসানো হয়নি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, জায়গা অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে কাজের গুণমান বজায় রাখা সবকিছুতে উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পের সব জায়গায় নিয়মের তোয়াক্কা করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার কারণে ভাটিখাইন ছনহরা অংশে ব্লকগুলো সরে বাঁধের নিচে পড়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, প্রকল্প মূলত পানির স্তর নিয়ন্ত্রণ করা, সেচব্যবস্থায় সহায়তা করা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সংরক্ষণের জন্য নেওয়া হয়। যেখানে হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম (বাঁধ) স্থাপন করা হচ্ছে, তার এক পাশে শ্রীমাই খালে চলছে অবাধে বালু উত্তোলনের কাজ। কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে একটি প্রভাবশালী মহল কাজ করে যাচ্ছে। এতে প্রশাসন কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে নেওয়া হয়নি কোনো যথাযথ ব্যবস্থা। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুই দিনের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও ঝড়ের প্রভাবে অনেক জায়গায় বাঁধের ব্লক সরে যাচ্ছে। খালের দুপাশের বাঁধগুলোর কাজের গুণগত মান বজায় না রাখায় মাটি সরে গিয়ে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড পটিয়ার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার কর্মকর্তাদের গাফিলতির বিষয় অস্বীকার করে বলেন, প্রকল্প এখনো চলমান, কাজ এখনো শেষ হয়নি। কাজের কিছু ত্রুটি থাকতেই পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা কাজগুলো দেখে ভুলভ্রান্তিগুলো ঠিক করে দিব।’ ড্যাম এলাকায় বালু উত্তোলনের বিষয়ে বলেন, ‘আমরা পটিয়ার সহকারী কমিশনার ভূমিকে বিষয়টি অবগত করেছি। ওনারা বিষয়টি দেখবেন।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন