সীতাকুণ্ডে কালু শাহ (রহ.)-এর ওরসে লাখো মানুষের ঢল

উপজেলা প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

সীতাকুণ্ডে কালু শাহ (রহ.)-এর ওরসে লাখো মানুষের ঢল
ছবি: আমার দেশ

চট্টগ্রামের আধ্যাত্মিক ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ সীতাকুণ্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রখ্যাত সুফি সাধক হযরত খাজা কালু শাহ (রহ.)-এর বার্ষিক ওরস শরিফ। বুধবার রাতে সলিমপুর ইউনিয়নের কালু শাহ (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা হাজারো ভক্ত, আশেকান ও জায়েরিনের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় এক ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

জিকির-আসকার, মিলাদ মাহফিল, দোয়া, মোনাজাত ও ধর্মীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এ ওরসকে ঘিরে দিনভর মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মাজার প্রাঙ্গণ পরিণত হয় সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক বিশাল মিলনমেলায়।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ। তিনি বলেন, সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সুফি সাধকদের অবদান অনস্বীকার্য। বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজকে মাদক, কিশোর গ্যাং, উগ্রবাদ ও নৈতিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ।

বক্তব্যে তিনি বলেন, সুফি সাধকদের শিক্ষা মানুষকে ভালোবাসা, সহনশীলতা ও মানবতার পথে পরিচালিত করে। একটি সুন্দর, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে তাদের আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই। বিভেদ নয়, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই হতে পারে সমাজ পরিবর্তনের প্রধান শক্তি।

ওরস উপলক্ষে মাজারে আগত ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মিশে যাওয়ার কারণে অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর উপস্থিতি অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি মাজার প্রাঙ্গণে ঘুরে ঘুরে জায়েরিনদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনেন।

স্থানীয়দের মতে, সীতাকুণ্ডের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং ধর্মীয় পর্যটনের সম্ভাবনা বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী মাজার এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা, দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ওরসে অংশগ্রহণকারী ভক্তরা জানান, খাজা কালু শাহ (রহ.)-এর ওরস বহু বছর ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা, বয়স ও মতের মানুষ একত্রিত হয়ে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি লাভের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ পান।

অনুষ্ঠানে মাজার পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজক ও উপস্থিত ভক্তদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও খাজা কালু শাহ (রহ.)-এর ওরস সম্প্রীতি, মানবিকতা ও সামাজিক ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...