র্যাপিড একশান ব্যাটেলিয়ন (র্যাব) এর মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেছেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের এই সন্ত্রাসীদের আস্তানাকে গুড়িয়ে দেওয়া হবে। শীঘ্রই যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হবে। এজন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই অভিযানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, এপিবিএন, পুলিশ, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থাকে যুক্ত করা হবে। বড় পরিসরে সফল অভিযান পরিচালনা করতে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হবে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, সরকারি খাস জমি উদ্ধার ও র্যাব সদস্য আব্দুল মোতালেব হত্যার বিচার নিশ্চিত করা।
মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র্যাব কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত র্যাব সদস্য আব্দুল মোতালেবের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে র্যাবের মহাপরিচালক এসব তথ্য জানান।
তিনি আরো বলেন, গত সোমবার বিকালে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত আক্রমণে আমাদের সদস্য আব্দুল মোতালেব শহীদ হয়েছেন। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জঙ্গল সলিমপুরে আমাদের নজর রাখবো। আমরা যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলা করে অভিযান অব্যাহত রাখবো সেখানে। তবে এই ঘটনায় আমাদের ভুলগুলোকে খুঁজে আমরা শোধরে নেব এবং বড় পরিসরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, এপিবিএন, জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্য বাহিনী ও সংস্থাকে নিয়ে আরও সফলতার সাথে যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু করব। সেই অভিযানে সরকারি জমিও উদ্ধার করা হবে, গ্রেপ্তার করা হবে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের।
তিনি বলেন, আমাদের স্পষ্ট ঘোষণা, খুব শীগ্রই এই ঘটনায় যারা দায়ী তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের রায় কার্যকর না হওয়া অবধি নজর রাখব। সন্ত্রাসীদের এই আস্তানাকে আমরা ভেঙেচুরে গুড়িয়ে দেব। এ ঘটনায় র্যাব একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আমরা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ইতিমধ্যে চিহ্নিত করেছি। র্যাব মোতালেবের পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে নিহত র্যাব সদস্য আব্দুল মোতালেবের লাশ সিএমএইচ থেকে চমেক হাসপাতালের মর্গে আনা হয়। সেখান ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয় পতেঙ্গা র্যাব কার্যালয়ে। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় তার নামাজে জানাজা। জানাজায় যোগ দেন র্যাবের ডিজি এ কে এম শহিদুর রহমান, র্যাব-৭ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টে্রট মাহবুবুল হকসহ প্রশাসনের উর্ধ্ব্তন কর্মকর্তারা। জানাজা শেষে নানা আনুষ্ঠানিকতার পর আব্দুল মোতালের মরদেহ বহনকারী এম্বুলেন্স তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় নিয়ে যাওয়া হয়। কুমিল্লা সদর উপজেলার কালীর বাজার ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হবে।
সোমবার বিকালে র্যাবের ১৬ সদস্যের একটি দল সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে গ্রেপ্তার অভিযানে নামে। এসময় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন আব্দুল মোতালেব। নৃশংস এই হত্যার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সোমবার রাথভর জঙ্গল সলিমপুরে অবস্থান করলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ঘটনার ২৪ ঘন্টা পেরুলেও থানায় কোনো মামলা হয়নি। এমনকি কোনো সন্ত্রাসীকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। উল্টো মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গেলে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অনুসারীরা সাংবাদিকদের কাছে র্যাবের অভিযানকে হামলা আখ্যা দেন। এসময় তারা পাল্টা মানববন্ধন করার কথাও জানান।
সীতাকুণ্ড থানাধীন ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সোহেল রানা জানান, সোমবার বিকালে আমরা খবর পেয়ে সেখান থেকে চারজনকে উদ্ধার করি। একইসাথে চারটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। একটি রাজনৈদিক দলের কার্যালয় থেকে ঘটনায় সূত্রপাত হলেও মূল ঘটনাটি ঘটে আলীনগরের একটি দোকানে। বর্তমানে এলাকাটি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের নিয়ন্ত্রণে।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি (অফিসার ইনচার্জ) মহিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। প্রক্রিয়াগুলো সময় সাপেক্ষ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

