আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

শেখ হাসিনার সামরিক সচিবের আত্মীয়ের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

সেলিম উদ্দীন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)

শেখ হাসিনার সামরিক সচিবের আত্মীয়ের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় শেখ হাসিনার সামরিক সচিব ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে বনাঞ্চলের গাছ কেটে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি রেঞ্জের সাতগড় বিটের আওতাধীন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১২ একর জমির গাছ কেটে সাবাড় করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব মিয়া মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীনের মামাতো ভাই, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আনোয়ার কামাল এবং তার চাচাতো ভাই নজরুল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বনের ১০ একর জায়গার গাছ বিক্রি করলেও রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তারা কোনো আইনি পদক্ষেপ নেননি।

বিজ্ঞাপন

চুনতি রেঞ্জের সাতগড় বিটের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের জাঙ্গালিয়া এলাকার পূর্ব পাশে ও বিভিন্ন স্থানে সুফল প্রকল্পের গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাছাড়া সাতগড় বিট কর্মকর্তার কার্যালয়ঘেঁষে বনের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে ১০টির বেশি মাছের প্রজেক্ট। বেপরোয়াভাবে বনের গাছ কেটে অর্ধশতাধিক মাছের প্রজেক্ট এবং কয়েক হাজার পানের বরজ তৈরি করে পরিবেশ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটÑএমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিন দেখা যায়, বান্দরবান জেলার সীমান্তবর্তী চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি রেঞ্জের সাতগড় বিটের আওতাধীন বন বিভাগের ৭৭৭৪ থেকে ৭৭৭৯ ছয়টি বিএস দাগের বদরঘোনা এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক সচিব মিয়া মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীনের মামাতো ভাই, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আনোয়ার কামাল ও তার চাচতো ভাই নজরুল ১২ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কেটে সাবাড় করে জমি দখল করেছেন। এ বিষয়ে বন বিভাগ তেমন কিছু জানে না। এছাড়া নুরুলের খামার (নুরুল্ল্যার খামার) ও তার পাশের এলাকায় আরো ২০ একর বনাঞ্চলের গাছ কেটে সাবাড় করে ফেলেছে অবৈধ গাছ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।

অপরদিকে লম্বাশিয়া এলাকার মতিউর রহমান মইচ্ছানির খামারের পূর্ব-উত্তরে ১০ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কেটে দিনের বেলায় বাঁশখাইল্ল্যা পাড়ার কোম্পানি খামারে স্তূপ করে রাখছে গাছ ব্যবসায়ী বেলাল ও নুর ইসলাম। রাতের আঁধারে ট্রাক ভর্তি করে গাছগুলো পাচার করে বলেও জানান স্থানীয়রা। দ্রুত গাছ কাটা বন্ধ করা না হলে শিগগির উজাড় হয়ে যাবে বনাঞ্চল।

চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা আবির হোসেন জানান, সাবাড় হওয়া বনাঞ্চলের অংশটি তাদের আওতায় পড়েনি, পার্বত্যাঞ্চলের মধ্যে পড়েছে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, অপরাধী যেউ হোক, তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অবৈধভাবে গাছ কাটা বা পাচারকাজে বন বিভাগের কেউ সম্পৃক্ত থাকলে তাদেরও বিচার করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...