চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের ছিন্নমূল এলাকা যেখানে ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট সেনাবাহিনীর অভিযানে একটি দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানা পাওয়া গিয়েছিল, সেই একই এলাকায় আবারও ঘটল বড় সহিংসতা। সোমবার বিকেলে র্যাব–৭–এর অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হয়েছেন বিজিবির নায়েব সুবেদার আব্দুল মেতালেব। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন র্যাব সদস্য ও একজন র্যাবেরই সোর্স।
র্যাব–৭ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় একটি অফিসে আসামি লুকিয়ে থাকার খবর পেয়ে র্যাবের ১৬ সদস্যের একটি দল অভিযান চালায়। অপারেশনের অংশ হিসেবে চার সদস্য ভেতরে প্রবেশ করলে চারদিক ঘিরে থাকা সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাদের ওপর চড়াও হয়।
প্রথমেই তারা নায়েব সুবেদারের ব্যবহৃত অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। এরপর তার পায়ে গুলি করে বেধড়ক পেটায়। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ছিন্নমূল ও জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী তৎপরতা ও অবৈধ নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলাও নতুন নয়।
২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী একই ছিন্নমূল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়েছিল। ওই অভিযানে একটি সক্রিয় দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে ছয়টি দেশীয় অস্ত্র, ৩৫টি খালি কার্তুজ, পাঁচটি তাজা কার্তুজ, চাইনিজ কুড়াল, ছুরি, ওয়াকিটকি, মেগাফোনসহ বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় চারজন সন্ত্রাসীকে।
এবার একের পর এক ঘটনার ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের আশঙ্কা, ছিন্নমূল এলাকা আবারও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয় তৎপরতার কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে।
র্যাব–৭–এর সিনিয়র একজন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের সদস্যরা চারদিক ঘিরে ফেললেও পরিস্থিতি ‘কন্ট্রোলড ফায়ার’-এর উপযোগী ছিল না। তাই গুলি চালায়নি র্যাব। অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার পর হামলা অত্যন্ত দ্রুত ঘটে যায়।
র্যাব–৭-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন বলেন, ছিন্নমূলসহ আশপাশের এলাকা এখন অতিরিক্ত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

