এক সাথে মৃত্যু এক সাথে দাফন। পাশাপাশি চিরনিদ্রায় শায়িত এক পরিবারের ৪ জন। শুক্রবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তিতারকান্দি গ্রামে জানাজা শেষে মসজিদের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন হয় তাদের ।
ঈদের ছুটি শেষে ঢাকা ফিরছিলেন মুফতি আব্দুল মমিন সহ তার পরিবার। কিন্তু এটিই যে শেষ যাত্রা হবে কে জানতো। সড়ক দূর্ঘটনায় একই সঙ্গে নিভে গেছে ৪টি প্রদীপ। ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে ১২ বছরের আবরার। সে গাড়ির বাম-পাশের পিছনে বসা ছিলেন। চোখের সামনে পরিবারে সকলের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ আবরার। ভাষা হারানো দৃষ্টিতে বিষাদময় চোখের জলে বিদায় দিলেন স্বজনদের।
শুধু আবরার নয়, শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম। তারা বলছেন সবসময় শুনছি একসঙ্গে একাধিক ব্যক্তিকে কবর দেওয়া হয়েছে। এবার চোখের সামনে দেখছি। ৪টি কবর খোঁড়া হয়েছে। এর আগে এমন দৃশ্য দেখিনি তারা। এমন ঘটনায় গ্রাম জুড়ে শোকের মাতম চলছে।
নিহত মুফতি আব্দুল মমিনের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলায় হলেও তিনি বিয়ে পর থেকে থাকতেন ঢাকার মোহাম্মদপুর ও লক্ষ্মীপুরের তিতারকান্দি গ্রামের শশুর বাড়িতে।
জানা যায়, ঢাকায় একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন মুফতি আব্দুল মমিন। ঈদের ছুটি শেষে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকার কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কালাকচুয়া এলাকায় যাত্রীবাহী স্টার লাইন বাসের ধাক্কায় প্রাইভেটকার দুমড়েমুচড়ে যায়।
মুফতি আব্দুল মমিন (৫০), তার স্ত্রী ঝর্না বেগম (৪০), ছেলে সাইফ (৭), মেয়ে লাবিবা (১৮) এবং প্রাইভেটকার চালক জামাল হোসেন (৫২) নিহত হয়। চালকের বাড়ি বরিশাল জেলায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল বলেন, এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকে স্তব্ধ পরিবার ও এলাকাবাসী। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন মমিন। কর্মস্থলে ফেরার যাত্রাই যেন শেষ যাত্রা হয়ে গেল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

