আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সিলিং–খড়কুটো–বালির নিচে লুকানো অস্ত্র, চেয়ারম্যানের দুই ভাই গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সিলিং–খড়কুটো–বালির নিচে লুকানো অস্ত্র, চেয়ারম্যানের দুই ভাই গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পরিবারের বাড়িতে সেনাবাহিনী পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি অস্ত্র, গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে সারোয়াতলী ইউনিয়নের হোরারবাগ এলাকায় চেয়ারম্যান বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয়। ঘটনায় বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেনের দুই ভাই সালাউদ্দিন রুমি (৫১) ও সাইফুল ইসলাম বাপ্পীকে (৫৬) গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী।

বিজ্ঞাপন

অভিযানের নেতৃত্ব দেন বোয়ালখালী সেনা ক্যাম্প কমান্ডার মেজর রাসেল প্রধান। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরুর পর সেনা সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে রুমি ও বাপ্পী পুকুরে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির বিভিন্ন গোপন আস্তানা তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় চারটি বিদেশি শটগান, দুটি পিস্তল, ১৩ রাউন্ড গুলি এবং অস্ত্র তৈরির উন্নতমানের সরঞ্জাম।

মেজর রাসেল বলেন, চেয়ারম্যান পরিবারের সদস্যরা শুধু অস্ত্র বেচাকেনাই করছিলেন না, নিজস্ব পদ্ধতিতে অস্ত্র তৈরিরও চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের স্পষ্ট প্রমাণ আমরা পেয়েছি।

তল্লাশি অভিযানে বাড়ির সিলিং, আলমারির গোপন বাক্স, পরিত্যক্ত ঘরের খড়কুটোর নিচে, এমনকি নির্মাণাধীন ভবনের বালির গাদার ভেতরেও লুকানো অস্ত্র মজুত পাওয়া যায়। সেনা কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া এসব অস্ত্র অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, যা উদ্দেশ্যমূলক গোপন কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার রুমির বিরুদ্ধে অন্তত ছয়টি এবং বাপ্পীর বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের বাবা আবুল বশর ছিলেন সারোয়াতলী ইউনিয়নের টানা কয়েক দফার চেয়ারম্যান। বর্তমানে বড় ভাই বেলাল হোসেন চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযানের পর গ্রেপ্তার দু’জনকে বোয়ালখালী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, চেয়ারম্যান পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এই অস্ত্র বাণিজ্য চললেও কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

সেনাবাহিনী বলছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং কারা এ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে আরও গ্রেপ্তার ও অভিযান পরিচালনার ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...