‘ছেলের লাশটুকু অন্তত দেশে এনে শেষবারের মতো দেখতে চাই’—সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে রাশেদ মিয়ার মৃত্যুর সংবাদ শুনে মা-বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলেন। সরকারের কাছে তাদের একটাই দাবি, লাশ দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হোক।
নিহত প্রবাসী রাশেদ মিয়ার (৪০) গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের চর কামালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায়। তিনি আহাদ মিয়ার ছোট ছেলে। নিহত রাশেদ মিয়ার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যা রয়েছে।
সোমবার সকালে তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। বাড়িতে ভিড় করছেন আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী। শোকে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন নিহতের স্ত্রী, মা-বাবা, ভাই-বোন ও স্বজনেরা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন তিনি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান রাশেদ মিয়া। তিনি সৌদি আরবের দাম্মাম অঞ্চলের হাসা, মাহসিন যাওয়া-যাত অফিসসংলগ্ন বরকত উল্লাহ কেরেলা হোটেলে কর্মরত ছিলেন।
এদিকে নিহতের পরিবার রাশেদের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকার, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রবাসীদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইয়াসিন খন্দকার বলেন, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশটি দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।
িএসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

