আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ভোজ্যতেল আমদানির ঘানি আর টানতে হবে না

উপজেলা সংবাদদাতা, (শ্রীপুর) গাজীপুর

ভোজ্যতেল আমদানির ঘানি আর টানতে হবে না

ভোজ্যতেল আমদানির ঘানি আর টানতে হবে না, বেঁচে যাবে বৈদেশিক মুদ্রা। সূর্যমুখী চাষের সফলতা সে সুসংবাদ নিয়ে এসেছে।

দেশের অন্যান্য স্থানের মতো গাজীপুরের শ্রীপুরে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে সফল হয়েছেন কবির হোসেন। তিনি চার বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। গাছে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। এক একটি ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে। চারিদিকে হলুদ ফুল আর সবুজ গাছে সে এক অপরূপ দৃশ্য।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কায়েতপাড়া এলাকায় প্রথমবারের মতো চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী ফুল। ভোজ্যতেলের সংকটকালে এই তেলজাতীয় উদ্ভিদ সূর্যমুখী চাষ কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সূর্যের দিকে মুখ করে আছে ফুল, সকালে পূর্ব দিকে তাকিয়ে হাসলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আবর্তনে তার দিক পরিবর্তন হয়। সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে বলে এই ফুলকে সূর্যমুখী বলা হয়। সূর্যমুখীর ক্ষেতে একবার চোখ পড়লে তা ফেরানো কঠিন।

বাগানের মালিক কবির হোসেন জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়ে এ বছর চার বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছি। চার বিঘা জমিতেই চমৎকার ফলন হয়েছে। যে সুন্দর ভাবে ফুল ফুটতে শুরু করেছে আমার কাছে খুবই ভালো লাগছে। তবে শুরুতেই দর্শনার্থীদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি।

মওনা থেকে আসা দর্শনার্থী আকাশ ও নাজমুল বলেন, শ্রীপুরে এই প্রথম সূর্যমুখী চাষ হয়েছে তাই বাগান দেখতে এসেছি। এসে আমরা অনেক ছবি তুললাম। আমাদের খুব ভালো লাগছে। সূর্যমুখী ফুলের বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী রুবাইয়্যাত আক্তার বলেন, শহরের ঘরবন্দি অবস্থা থেকে একটু মুক্ত হাওয়ায় বেড়াতে ও বাগান ভরা ফুল দেখতে এখানে আসা। ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী শিরিনা আক্তার বলেন, বাসাবাড়িতে বিভিন্ন রকমের ফুলের বাগান করেছি। কিন্তু সূর্যমুখী ফুলের বাগান করা খুব একটা হয়ে উঠে না। এছাড়া একসঙ্গে অনেক সূর্যমুখী ফুল দেখে মনটা ভরে উঠলো।

কৃষক শাহজাহান জানান, চলতি মৌসুমে কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে তিনি সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। সফলতার মুখও দেখছেন। আগামী দিনে এই চাষ আরও বাড়াবেন বলে তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী সুমন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, অন্যান্য তেলের তুলনায় সূর্যমুখী ফুলের তেলের চাহিদা বেশি। তাই আমরা এই তেলজাতীয় ফসল চাষে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রদর্শনী হিসাবে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ সূর্যমুখী ফুলের বীজ পাওয়া যাবে। এ বছর শ্রীপুর উপজেলায় প্রদর্শনী হিসেবে গাজীপুর ও বরমী ইউনিয়নে আট বিঘা জমিতে প্রদর্শন দেওয়া হয়েছে।

এমএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন